দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুক্তা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের গছাহার গ্রামের বেলায়েত ডাক্তারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা বেগম একই গ্রামের মো. সুরজামানের স্ত্রী।
এ ঘটনায় নিহতের মা সোনালী বেগম বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে চিরিরবন্দর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে। আটকরা হলেন—মেরিনা খাতুন (৩৫), মর্জিনা বেগম (৬৩), ফাতেমা বেগম (৩৫) ও খলিলুর রহমান (৬৫)। তারা সবাই গছাহার গ্রামের বেলায়েত ডাক্তারপাড়ার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের ঘটকালী ও ধারদেনা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেন (৩৮)-এর সঙ্গে দুই সন্তানের জননী মুক্তা বেগমের কয়েক বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এরই জেরে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা মারধর করে মুক্তা বেগমকে ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় অপমানবোধ করে মুক্তা বেগম ঘরের ভেতরে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ইসমাইল হোসেনের পরিবারের ওপর চড়াও হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চারজনকে আটক করে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যরা পালিয়ে গেছে।
চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুন নবী জানান, নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন