রংপুরে আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন রংপুর জেলার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু, আলুচাষী এমদাদুল হক বাবু, আবুল কাশেমসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলুর দাম নেমে এসেছে কেজি প্রতি মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকায়। ফলে এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না।
তারা আরও বলেন, কৃষকরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে চাইলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের যোগসাজশে অধিকাংশ জায়গা আগেই বুকিং হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা আলু সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার বাজারে বিক্রি করলেও ন্যায্য দাম মিলছে না।
এদিকে চলমান বোরো মৌসুমে দেশে সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, অনেক জায়গায় ব্যবসায়ীরা কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা কার্যকর হচ্ছে না। কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কৃষক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে আলু ক্রয়-বিক্রয় ও রপ্তানি, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সারের দুর্নীতি ও কালোবাজারি বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, হিমাগারে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৮ টাকা থেকে কমিয়ে দেড় টাকা নির্ধারণ, অগ্রিম বুকিংয়ের নামে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা আদায় বন্ধ, সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় বিশেষায়িত বীজ হিমাগার নির্মাণ, সকল হিমাগারে প্রকৃত কৃষকের জন্য অন্তত ৬০ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ বাধ্যতামূলক করা এবং লাভজনক দামে আলু বিক্রি করতে না পারা কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন