ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ম. ম. সিদ্দিক মিয়া (৫৭) ১৭৫ দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে তিনি ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন। জেল থেকে মুক্তির পর কারাগারের গেটে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় তারা একে অপরকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কারামুক্তির পর ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিয়া বলেন, আমার জেলমুক্তির জন্য নবনির্বাচিত এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
অন্যদিকে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল রোববার বিকেলে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম ভাঙ্গার ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সবাইকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করবো। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিদ্দিক চেয়ারম্যান মুক্ত হলো। আমি নিজে জেলগেটে থেকে তাকে রিসিভ করলাম।
জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন চেয়ারম্যান সিদ্দিক মিয়া।
গত ৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলে এলাকাবাসী এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে। আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নবাসী দুই দফায় চার দিন মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ আন্দোলনে ভাঙ্গার অন্যান্য ইউনিয়নের বাসিন্দারাও সমর্থন জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেয়।
চারদিন অবরোধ কর্মসূচি পালনের পর আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন ভাঙ্গায় মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান সিদ্দিক মিয়া। তবে কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে পুলিশের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আদেশে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ