মাদারীপুরে দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আলমগীর হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৮৬ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল সকালে উপজেলার নতুন মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আলমগীর হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার জের ধরে ওইদিন রাতে উত্তেজিত জনতা প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সী পক্ষের বিভিন্ন বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং আগুন দেওয়া হয়। পরে যৌথবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে আজ সকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশসহ যৌথবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন মাদারীপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার পক্ষ ও হাসান মুন্সী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সময় কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসান মুন্সীর ভাই সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সীকে।
বিডি প্রতিদিন/কামাল