কুড়িগ্রামের উলিপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুঃস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৮৩ হাজার ৩৭০ জনের জন্য ৮৩ মেট্রিক টন ৩৭০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৮০০ জন সুবিধাভোগী এই সহায়তা পাবেন।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউপি সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হতদরিদ্র মানুষের তালিকা যাচাই-বাছাই করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ ওঠে, চেয়ারম্যান এরশাদুল হক সকালে পরিষদে এসে তার অনুসারী ও পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে আগেই তালিকা প্রস্তুত করে ফেলেন।
দুপুরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে এসে জানতে পারেন যে তালিকা তৈরির কাজ ততক্ষণে শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে তারা চেয়ারম্যানের কাছে তালিকা তৈরিতে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় সুবিধাভোগী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে চেয়ারম্যানের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে চেয়ারম্যান এরশাদুল হক আহত হন। পরে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবার সমন্বয়ে দুঃস্থদের তালিকা তৈরির কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তার অনুসারীদের নিয়ে আগেই তালিকা তৈরি করেন। এতে বঞ্চিত জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে ফোন করা হলে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তার ছোট ভাই ওবায়দুল হক জানান, চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তিনি চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ায় ইউপি সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জেনেছেন। ওই ইউনিয়ন পরিষদের সব ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে তার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল