মেঘনাসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে একটি ট্রলার ও সরঞ্জাম জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ ও নৌপুলিশ। রবিবার রাতে বরিশালের হিজলা উপজেলার মৌলভীরহাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, কিছু অসাধু জেলে গভীর রাতে নদী ও খালে বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে মাছ শিকার করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় শক দিয়ে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রলারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তবে অভিযান টের পেয়ে জেলেরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এসব জেলেরা সাধারণত রিকশা বা ইজিবাইকে ব্যবহৃত ব্যাটারির সঙ্গে একটি ইনভার্টার সংযুক্ত করে ব্যাটারির ভোল্ট কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেয়। এরপর ইনভার্টার থেকে দুটি তার বের করে একটি পানিতে এবং অন্যটি জালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এতে নদীর পানিতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ফুটের মধ্যে থাকা মাছ অল্প সময়ের মধ্যেই ভেসে ওঠে। পরে সেগুলো জাল দিয়ে তুলে নেওয়া হয়।
মোহাম্মদ আলম বলেন, এ পদ্ধতিতে মাছ ধরার ফলে শুধু মাছ নয়, নদীতে থাকা অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যায়। এমনকি কোনো মাছ বেঁচে গেলেও তার প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও জানান, বৈদ্যুতিক শকে ধরা মাছ মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর, কারণ এতে দ্রুত পচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং স্থানীয়দের সচেতন করা হচ্ছে।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক