কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউপির দক্ষিণ লম্বরী এলাকা থেকে মুক্তিপণ আদায় ও মানব পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণের শিকার ৪ জনকে উদ্ধার ও ২ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সিপিসি-১ টেকনাফ, র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক শনিবার বিকালে জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে টেকনাফ থানাধীন পৌরসভাস্থ ঝরণা চত্ত্বর এলাকায় অবস্থানকালে সিপিসি-১ টেকনাফ, র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা জোর পূর্বক কিছু রোহিঙ্গা পুরুষদেরকে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা যোগে টেকনাফ থানাধীন সদর ইউপির দক্ষিণ লম্বরী সাকিনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় টেকনাফ থানাধীন টেকনাফ সদর ইউপির পর্যটন বাজার হতে মেরিন ড্রাইভগামী আমির আহম্মদ (৬০) এর মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তা উপর চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। তল্লাশিকালে সন্দেহজনক সিএনজি চালিত অটোরিক্সা থামালে দুই জন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স ও উপস্থিত জনসাধারনের সহায়তায় ২ জনক আসামিকে আটক করে। এরা হলো নতুন পাল্লান পাড়ার নেয়ামত উল্লাহ (২৯) ও শাহ আলম (৩৭)।
এসময় ৪ জন ভিকটিমকে উদার করে। উদ্ধারকৃত একজন ভিকটিম জানায় যে, গত ১০ এপ্রিল থানাধীন বালুখালী ক্যাম্পের সামনে হতে পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামীরা সিএনজি যোগে অপহরণ করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং মাঝ পথে সিএনজি চালিত অটোরিক্সার ভিতর আটক করে মারধর করে তার পরিবারের নিকট তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অন্যান্য ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, পলাতক আসামীরা ভিকটিমদের জবরদস্তিমূলক বিভিন্ন জায়গা এবং পথিমধ্য হতে অপহরণ করে ধাপে ধাপে বর্ণিত ভিকটিমদের ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য জোরপূর্বক পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। ভিকটিমদের আটক রাখিয়া মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রত্যেক ভিকটিমদের পরিবারের নিকট এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে তাদের মালেশিয়া পাচার করার হুমকী দেয়। মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় ভিকটিমদের কিলঘুষি ও লাথি মেরে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলা ফুলা জখম করে।
উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিডি প্রতিদিন/এএম