কুমিল্লা জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
সভায় জ্বালানি তেল ও ভোজ্যতেল সম্পর্কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক বলেন, বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ অন্তত ৮০ শতাংশ কমে গেছে। কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহ করছে না। তবে খোলা তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেল মজুদের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তবে সিলিন্ডার গ্যাস সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনছেন বলে জানিয়েছেন। ১৭৩০-১৮৫০ টাকা ডিলার রেট পড়ছে। তাদের জ্বালানিসহ খরচ হওয়ার কথা ১৯৫০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২২৫০ টাকা পর্যন্ত। তারা অধিক মুনাফা করছেন। একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমছে। কিছুদিন আগে কয়েকটি নিত্যপণ্য নিয়ে মানুষের অস্বস্তি ছিল, বর্তমানে তা কেটে গেছে। তবে তেল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকটি পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে না। অতিরিক্ত চাপ ও হাঙ্গামার ভয়ে পাম্প মালিকরা ভয় পান-এমন তথ্য দেন দি মোটরস অ্যাসোসিয়েশন কুমিল্লার সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার।
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, জ্বালানি তেল সরবরাহে কুমিল্লার অবস্থান ভালো। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। কেউ ম্যাজিস্ট্রেটের সাহায্য চাইলে সে ব্যবস্থাও আমরা গ্রহণ করব। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ করতে দেওয়া হবে না।
জলাশয় ভরাট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিংকু ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের পর থেকে কুমিল্লার কতগুলো মজা পুকুর ভরাট হয়েছে আমরা জানতে চাই। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের লোকজনই জলাশয় ভরাটে সহায়তা করছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার প্রতিনিধি বলেন, কেউ জলাশয় ভরাট করলে আমরা মামলা করছি। কিন্তু মামলা চলা অবস্থাতেই জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমরাও ব্যবস্থা নিতে পারি না। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য গত তিন বছর ধরে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হচ্ছে না। সিটি করপোরেশন থেকে ভরাট করা পুকুরের তালিকা চেয়েও আমরা পাইনি।
সভায় কিশোর গ্যাং সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাফর সাদিক বলেন, এটি সামাজিক অপরাধ। আমরা সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে শুধু আইনি ব্যবস্থা দিয়ে এটি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এতে সমাজের সব স্টেকহোল্ডারের ভূমিকা থাকতে হবে।
সভায় জানানো হয়, গত মার্চ মাসে কুমিল্লার সড়ক-মহাসড়কে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ২১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৩ জন। মার্চ পর্যন্ত জেলায় মাদক ও চোরাচালানের মোট ১৯ হাজার ২৯২টি মামলা অনিষ্পত্তি অবস্থায় রয়েছে
বিডি-প্রতিদিন/এমই