বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী হাওর অঞ্চলের মানুষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুলিকুন্ডা গ্রামে বসেছে ঐতিহ্যবাহী শুটকি মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বহু বছরের পুরোনো প্রথা অনুযায়ী এখনো কিছু বিক্রেতা পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে শুটকি বিক্রি করছেন। তবে আগের তুলনায় এ প্রথা অনেকটাই কমে গেছে।
মেলার নিয়মিত বিক্রেতা নাফিজা চৌধুরী জানান, তিনি গত দুই দশক ধরে এ মেলায় অংশ নিচ্ছেন। আগে আলু, বেগুন, শিমের বিচিসহ বিভিন্ন ফসলের বিনিময়ে শুটকি বিক্রি করতেন। কিন্তু বর্তমানে শুটকির দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সবজির মূল্য তুলনামূলক কম থাকায় এ বিনিময় প্রথা অনেকটাই কমে গেছে।
ক্রেতা মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, চার পুরুষ ধরে এ মেলা চলে আসছে। মুগল আমল থেকেই এখানে পণ্যের বিনিময় প্রথা ছিল। এখন টাকার প্রচলনে সেই ঐতিহ্য কমে গেলেও মেলার গুরুত্ব এখনো রয়েছে।
আরেক ক্রেতা শেখ হোসাইন আহম্মেদ জানান, তিনি আত্মীয়স্বজনদের জন্য ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার শুটকি কিনেছেন। মেলায় পছন্দমতো শুটকি পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
মেলায় সুনামগঞ্জ থেকে আসা বিক্রেতা সুবল চন্দ্র দাস জানান, তিনি বোয়াল, আইড়, শোল, গজারসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছের শুটকি নিয়ে এসেছেন। মেলা শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৩৫ হাজার টাকার শুটকি বিক্রি করেছেন।
বিক্রেতারা জানান, বোয়াল মাছের শুটকি প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাইক্কা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, কাঁচকি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, শোল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং বাইম মাছের শুটকি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য ওহাব আলী বলেন, এক সময় এই মেলায় পণ্য বিনিময় ছিল প্রধান আকর্ষণ। বর্তমানে টাকার লেনদেনেই বেচাকেনা হলেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে আয়োজনটি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নিয়েছেন। শুটকির পাশাপাশি স্থানীয় কুমারদের তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কলস, থালা, পুতুলসহ নানা লোকজ পণ্যও বিক্রি হচ্ছে।
দুই দিনব্যাপী এই মেলায় প্রায় ৪০০টি দোকান বসেছে। আয়োজকদের আশা, এ বছর প্রায় ৫ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হবে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস