নাটোরের বড়াইগ্রামে ‘তেল দিতে দেরি হওয়ায়’ একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের অভিযোগে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার আহম্মেদপুর এলাকায় কানন ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
ফিলিং স্টেশনটির ক্যাশিয়ার ফজর আলী জানান, গতকাল সন্ধ্যায় প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়ার পর তা ক্রেতাদের কাছে একটানা বিক্রি করা হচ্ছিল। রাত দেড়টার দিকে কর্মচারীরা খাবার খেতে গেলে স্থানীয় ট্রাকচালক আব্দুল ওয়াহাব তাৎক্ষণিকভাবে তেল দেওয়ার দাবি করেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যাশ কাউন্টারের সামনের কাচের দেওয়াল, ক্যাশরুম ও ব্যবস্থাপকের কক্ষে ভাঙচুর চালান। একই সঙ্গে দুটি কক্ষের মালামাল তছনছ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। এমন বাজে ব্যবহার কোনো ক্রেতার কাছে পাইনি। তেল পেতে একটু দেরি হওয়ায় ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছ করেছে ওয়াহাব ড্রাইভার, আমাদেরকেও লাঞ্ছিত করেছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল ওয়াহাব জানান, তিনি নিজের ট্রাকে তেল নিতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন। তার দাবি, পাম্প কর্তৃপক্ষ নিয়ম ভেঙে বনলতা অটো ইটভাটার গাড়িতে একটানা তেল দিচ্ছিল। তিনি শুধু এর প্রতিবাদ করেছেন, ভাঙচুর করেননি।
ফিলিং স্টেশনটির মালিক ধীরেন্দ্রনাথ সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দাবি করে বলেন, খাবার খেতে যাওয়ার সময় ওই চালক তাৎক্ষণিক তেল না পেয়ে ভাঙচুর ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি পুলিশ ও জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে। হামলাকারীর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হবে।
ইটভাটার গাড়িতে তেল দেওয়ার বিষয়ে ধীরেন্দ্র নাথ সাহা বলেন, ‘তারা আমাদের নিয়মিত ক্রেতা। তাদের তেল দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাই বলে ভাঙচুর করতে হবে কেন?’
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিডি-প্রতিদিন/এমই