মানিকগঞ্জে ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেশিয় মৌসুমি ফল। এতে করে দেশিয় মৌসুমি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে শতাধিক ইটভাটা গড়ে উঠেছে, যার বেশিরভাগই তিন ফসলি জমির ওপর এবং আবাসিক এলাকার মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপের কারণে আশপাশের আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলগাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। আগে যেসব গাছে প্রচুর ফল ধরত, এখন সেখানে ফলন প্রায় নেই বললেই চলে। মৌসুমে গাছে মুকুল এলেও ইটভাটার ধোঁয়ার প্রভাবে তা ঝরে পড়ে যাচ্ছে।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকার বাসিন্দা মজিবর রহমান (৭০) বলেন, “একসময় প্রতিটি বাড়ির চারপাশে আম, কাঁঠাল, নারিকেলসহ নানা ফলের গাছ ছিল। ইটভাটা স্থাপনের পর থেকেই এসব গাছের ফলন কমতে থাকে। এখন তো অনেক ফলই বিলুপ্তির পথে।”
একই এলাকার আয়শা খাতুন (৬৮) বলেন, “এই গ্রামে বৌ হয়ে আসার পর দেখেছি ফল ভরা গাছপালা। এখন ইটভাটার ধোঁয়া আর আগুনের তাপে কিছুই হয় না। এমনকি ঘরের ভেতরেও তাপ অনুভূত হয়।”
এ বিষয়ে সচেতন মহল দ্রুত আবাসিক এলাকা ও তিন ফসলি জমি থেকে ইটভাটা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ফলের নাম ও স্বাদ ভুলে যাবে।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) ড. মোছা. মমতাজ সুলতানা বলেন, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করছে। পাশাপাশি আগুনের তাপে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, যার ফলে ফসল ও ফলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গাছে ফুল এলেও ফল হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে।
তিনি আরও জানান, কৃষি ও ফলজ গাছ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। না হলে পরিবেশ ও কৃষির ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ