কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন-এ ট্রেনে কাটা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পড়ে থাকার ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঠেলাঠেলির সৃষ্টি হলে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
জানা গেছে, শনিবার রাতে নান্দাইল উপজেলার দাপুনহাটি এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে রবিবার বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ এবং পরে তা কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে আসে।
তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মেমো না পাওয়ায় পুলিশ মরদেহটি স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনে রেখে দেয়। এতে করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মরদেহটি প্ল্যাটফর্মেই পড়ে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর মরদেহ স্টেশনে আনা হলেও তা সরানো বা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো পক্ষই দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেনি। এতে যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কিশোরগঞ্জের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা আরিফ ইভান বলেন, স্টেশনে গিয়ে তিনি পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি দেখতে পান। একপর্যায়ে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহটি স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনে রেখে চলে যায়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় মেমো না দেওয়ায় মরদেহ হস্তান্তর ও পরবর্তী কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করলেও এ ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সহযোগিতা করেনি।
অন্যদিকে স্টেশন মাস্টার মো. খলিলুর রহমান বলেন, তাদের অবগত না করেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পুলিশ সমন্বয় না করে বরং খারাপ আচরণ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের এ ঠেলাঠেলির পর রবিবার বিকেল ৫টার দিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মেমো প্রদান করলে পুলিশ মরদেহটি মর্গে পাঠায়।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ