বরগুনার আমতলী উপজেলার সরকারি আরমান খোরশেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক মোঃ বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য ৩১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ের মাধ্যমে তাদের ফরম পূরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র নিতে বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ সময় তারা দেখতে পান, তাদের ফরম পূরণ হয়েছে পাতাকাটা নুরুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর নামে। এতে তারা বিস্মিত হয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন। পরে প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় আরও এক হাজার টাকা আদায় করা হয়।
শিক্ষার্থী তামান্নার বাবা হানিফ হাওলাদার বলেন, তার মেয়ের ফরম পূরণের জন্য ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, এমনকি প্রবেশপত্র নিতে গিয়েও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। পরে জানা যায়, অন্য বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী জিদান ও লিজা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবাদ করলে তাদের লাঞ্ছিত করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। তারা প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে পাতাকাটা নুরুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গাফফার জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন; শুধু একটি স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ বজলুর রহমান ৫ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় অন্য বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ফরম পূরণ করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ