ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাম-রুবলোর টিকাদান র্কমসূচি সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। জেলার ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সি সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু পাবে হামের টিকা। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদকিদরে সঙ্গে মত বিনিময়কালে সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া এ তথ্য জানান।
এ সময় তিনি আরো জানান জেলায় এ পর্যন্ত ১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তবে হামে আক্রান্ত কোনো শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। যে দু’জন মারা যাওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে তারা মূলত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলো।
মত বিনিময়কালে জানানো হয়, ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইনে পরিচালিত হবে। এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হলো ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট পাঁচ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩২ জন। শিশুকে হাম ও রুবেলা রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় জেলাজুড়ে মোট ১১টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং দুই হাজার ৩৮৮টি আউটরিচ কেন্দ্র পরিচালিত হবে। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা নাগাদ মাইক্রোপ্ল্যান অনুযায়ি টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
আরো জানানো হয়, ক্যাম্পইেন বাস্তবায়নে মোট ৩১২ জন সুপারভাইজার, ৬২৪ জন ভ্যাকসনিটের এবং ১,২৪৮ জন স্বেচ্ছোসবেক নিয়োজিত থাকবনে, যারা সমন্বিতভাবে শিশুদের কাছে টিকাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন। বর্তমানে জেলায় দুই লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ ডোজ এমআর ভ্যাকসনি মজুদ রয়েেছ এবং খুব শিগগিরই অতিরিক্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ পাওয়া যাবে, যা পুরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
আরো জানানো হয়, এমআর ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও র্কাযকর। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ট্যাকনিকেল অ্যাডভাইজরি কমিটি অনুমোদতি। বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় এই ভ্যাকসিন সফলভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই ভ্যাকসিনের কোনো পাশর্^প্রতিক্রিয়া নেই। নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে এসে তাদের ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে টিকা দিয়ে হাম ও রুবেলা মুক্ত বাংলাদশে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
মত বিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি জাবদে রহিম বিজন। এসময় বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেলা প্রতিনিধি ডা. শুভ রায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত সহকারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান, জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস। এদিকে সোমবার সকালে অবকাশ এলাকার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। এ সময় সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/এএম