কুমিল্লার চান্দিনায় পরিবারের কাছে মাদকের টাকা না পেয়ে নিজ বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে এনামুল হাসান (২৬) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার দোল্লাই নোয়াবপুর ইউনিয়নের কেগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
টানা দুই ঘণ্টা জ্বলতে থাকা আগুনে পুড়ে গেছে ওই পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা। এতে অন্তত ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি পরিবারটির।
স্থানীয় ও নিকটাত্মীয়রা জানান, কেগলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল ইসলামের বড় ছেলে এনামুল হাসান দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকাসক্ত। প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করত। রবিবার সকাল থেকে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরিবার তাকে টাকা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এনামুল হাসান নিজ ঘরে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে। দুই ঘণ্টার আগুন স্থানীয়দের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুড়ে যায় পুরো বসতঘরটি।
এনামুল হাসানের বড় বোন হাবিবা জানান, গত চার মাস এনামুলের অত্যাচার কয়েক গুণ বেড়েছে। রবিবার রাত অনুমান ৮টার দিকে এনামুল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে বাড়িতে আসে। অটোরিকশাটি দাঁড় করিয়ে রেখে সে পেট্রলের বোতল হাতে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে এবং অগ্নিসংযোগ করে আবারও সেই অটোরিকশা করে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে আমার মাসহ আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি।
দোল্লাই নোয়াবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া বলেন, ঘটনাটি সত্য। গত ৬ মাস আগেও আমরা তার একটি সালিস দরবার করেছি। এনামুল হাসান মাদকের জন্যই এ ঘটনা ঘটায়। প্রশাসন দ্রুত মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এনামুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি অগ্নিসংযোগ করিনি। তবে ওই স্থানে আমি পাকা ভবন করব। টিনের ঘরটি ভাঙার জন্য মিস্ত্রির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু মিস্ত্রি যে টাকা চায় তাতে ঘরের দামও এত হবে না।
যদিও অভিযুক্ত এনামুলের কথোপকথনে যথেষ্ট অসংগতি পাওয়া যায়।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, মাদকাসক্ত ছেলের নিজ ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথাটি আমরা শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি