লক্ষ্মীপুরে একটি নির্জন বাগানের ভেতরে মাটি খুঁড়ে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা সুড়ঙ্গ তৈরি করেছে। তবে সবাই বলছে এটি ‘বাঙ্কার’। এর ভেতরে প্রবেশ পথে বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে তৈরি ঢাকনা ছিল, উঠা নামার জন্য সিঁড়িও ছিল। ভেতরে বিছানাও দেখা গেছে। এই সুড়ঙ্গে ৩-৪ জন একসঙ্গে অবস্থান করতে পারতেন। এতে দিনরাত চলতো মাদক সেবন। এরসঙ্গে সুজন সাহা ভক্ত নামে এক যুবক জড়িত বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটিছে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রফুল্ল সাহার বাড়ির পাশের একটি বাগানে। চাঞ্চল্যকর এ সুড়ঙ্গ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে ভিড় জমায়। পরবর্তীতে কে বা কারা সুড়ঙ্গটি ভেঙে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রফুল্ল সাহার বাড়ির খোকন সাহার ছেলে সুজন সাহা ভক্ত ওই সুড়ঙ্গ তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে। যেখানে দিনরাত চলতো মাদক সেবন ও বেচাকেনা। মাদক ব্যবসায়ী চক্রের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই সুড়ঙ্গের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে সুড়ঙ্গটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
দালাল বাজা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক টুটুল পাটোয়ারী বলেন, সুজন একজন মাদক ব্যবসায়ী। বাগানের ভেতর মাটির নিচে আস্তানা তৈরি করে সে সেখানে আসর বসাতো। এখান থেকে মাদক বিক্রিও করতো। সুড়ঙ্গটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। ধারণা করা হচ্ছে সুজন নিজেই তা ভেঙে ফেলেছে। এ আস্তানার খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সে আত্মগোপনে রয়েছে। এখানে মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
বক্তব্য জানতে একদল সংবাদকর্মী সুজন সাহার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি, তার মোবাইল নাম্বার চাইলেও পরিবার দেয়নি। তবে তার স্ত্রী সুবাঙ্কা সাহা জানান, সুড়ঙ্গটি তার স্বামী বানিয়েছে। সেখানে সুজন আড্ডা দিতো ও সিগারেট খেতো। এর বাহিরে কিছু তিনি জানেন না। সুজন এখন কোথায় আছে তাও তিনি বলতে পারেননি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বাগানের ভিতরে মাদকের আস্তানার বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ