প্রায় ৩৫ বছর আগে সাজানো অপহরণ মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার দায়ে চার ব্যক্তিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক সাক্ষীকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ইকবাল হোসেন এই আদেশ দেন। দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন-শাহজাদপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের কাশেম আলী, আকবর আলী, আছের উদ্দিন ও বছিরুন্নেছা।
মামলার বরাদ দিয়ে আদালতের অতিরিক্ত পিপি হাদীউজ্জামান শেখ হাদী জানান, ১৯৯০ সালের ১৮ জুলাই শাহজাদপুর উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের আমির হোসেন মণ্ডলের ছেলে হিমুর সঙ্গে পাশের কাশীনাথপুর গ্রামের দেলবর খন্দকারের ছেলে আরমানের মারামারি হয়। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে দেলবর খন্দকার তার ছেলে আরমানকে অপহরন করা হয়েছে মর্মে আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেন।
মামলায় চিথুলিয়া গ্রামের আমির হোসেন মণ্ডল তার ভাই ইমাম মণ্ডল এবং আমির হোসেন মণ্ডলের দুই ছেলে বাবু মণ্ডল ও হিমু মণ্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
পিপি হাদীউজ্জামান শেখ আরও জানান, এই চারজন কারাভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে অপহৃত আরমানকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০০৯ সালে গোপন সূত্রে জানতে পারেন আরমান পাবনা জেলার চাটমোহরে তার এক আত্মীয়র বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছেন। পরে বিষয়টি পাবনা র্যাব অফিসে জানালে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরমানকে আটক করেন।
এ ঘটনায় মিথ্যা অপহরণ মামলা করায় কারাভোগকারী বাবু মণ্ডল বাদী হয়ে অপহরণ মামলার বাদী ও সাক্ষীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। কিন্তু মামলা চলাকালীন বাদী ও ভিকটিম মারা যায়। এ অবস্থায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় মঙ্গলবার মামলার চার সাক্ষীকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম