জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দিতে সরকার কাজ করে গেলেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতির কারণে মাঝেমধ্যেই লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ গ্রাহকদের। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেলওয়ের বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে কলোনির বহু বাসা ও দোকানপাটে অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বাসায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝা বহন করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিদ্যুৎ অফিসের লোক পরিচয়ে অবৈধ সংযোগ থেকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের বিভিন্ন অফিস ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ থেকে বিদ্যুৎ এনে রেলওয়ের অফিস ও কোয়ার্টারে সরবরাহ করা হয়। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) দপ্তর।
একটি সূত্র জানায়, আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে। তবে অধিকাংশ বাসাতেই রেলওয়ের কর্মচারীরা বসবাস করেন না। পুরোনো ও জরাজীর্ণ এসব বাসায় এখন বাইরের লোকজন বসবাস করছে। আবার কিছু বাসা বরাদ্দ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিজেরা না থেকে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, রেলওয়ে কলোনির অন্তত দেড় শতাধিক বাসা ও ২০ থেকে ২৫টি দোকানে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে রেলওয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সংযোগের অধিকাংশেই কোনো মিটার নেই। এসব বাসা ও দোকানে লাইট, ফ্যানের পাশাপাশি টিভি, ফ্রিজ, আয়রন ও বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কলোনিতে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, প্রতি মাসে পল্লী বিদ্যুৎকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় রেলওয়েকে। কুমারপাড়া কলোনি, পশ্চিম কলোনি ও পূর্ব কলোনি এলাকায় রেলের নিজস্ব বাসার পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বেশ কিছু অবৈধ বাসাবাড়ি ও দোকানপাট। অনেক বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও মিটার দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে একদিকে যেমন রেলের আর্থিক ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুতের অপচয়ও রোধ হবে।
এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, কিছু অবৈধ সংযোগ আছে। আমরা মাঝেমধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান পরিচালনা করি। তবে অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ