শরীয়তপুরে ডা. নাসিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও পাশবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং সাম্প্রতিক সময়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নোয়াখালীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী এবং জেলায় কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন— ড্যাব নোয়াখালীর সাধারণ সম্পাদক ডা. মনোয়ার হোসেন তালুকদার, ওজিএসবি নোয়াখালীর সভাপতি ডা. মাসুম আখতার, এনডিএফ নোয়াখালীর সভাপতি ডা. সোহরাব ফারুকী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফরিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালীর আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সাঈদ, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন স্বপন ও ফিরোজ মাহমুদ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর এভাবে ঘন ঘন হামলার ঘটনা ঘটে না। কোনো অনুসন্ধান ছাড়াই ঢালাওভাবে ‘ডাক্তারের অবহেলায় মৃত্যু’ বলে সংবাদ প্রকাশ করাও কাম্য নয়। অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যেত, কিন্তু এভাবে অমানুষিক নির্যাতন করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অমানবিক।
তারা আরও বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডা. নাসির ইসলামের ওপর নেক্কারজনক ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের জোর দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চিকিৎসক লাঞ্ছিত হলে বা হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটলে চিকিৎসক সমাজ ও হাসপাতাল মালিকরা আর ঘরে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন তারা।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল