মুন্সীগঞ্জে প্রায় দেড় বছর ধরে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার লাখো দরিদ্র, মেধাবী ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকটে অনেকেই পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে, কেউ কেউ ঝরে পড়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপবৃত্তি দেওয়া হয়। এ অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীরা বই-খাতা কেনা, কোচিং, যাতায়াত ভাড়া ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে উপবৃত্তির টাকা বন্ধ থাকায় হতাশা বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, উপবৃত্তি বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বারবার যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক উত্তর মিলছে না। ফলে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, উপবৃত্তির টাকাই ছিল তাদের পড়াশোনার অন্যতম প্রধান ভরসা। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে টিফিন, যাতায়াত ভাড়া কিংবা পরীক্ষার ফি জোগাড় করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। উপবৃত্তি না পাওয়ায় সেই সংকট আরও বেড়েছে।
বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামছুরনাহার বলেন, আমার বাবা দিনমজুর। উপবৃত্তির টাকা দিয়ে বই কিনতাম, কোচিং করতাম। প্রায় দেড় বছর ধরে টাকা না পাওয়ায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।
আলমগীর হোসেন নামের একজন অভিভাবক বলেন, সরকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য নানা উদ্যোগ নেয়, কিন্তু বাস্তবে আমরা সেই সুবিধা পাচ্ছি না। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে এখন ধার-দেনা করতে হচ্ছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, উপবৃত্তি কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বাড়তে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু থাকায় সেখানে উপবৃত্তি বন্ধ রয়েছে। তবে বাকি উপজেলাগুলোতে শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে।
তবে বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক শিক্ষার্থীই দীর্ঘদিন ধরে কোনো উপবৃত্তির টাকা পাননি।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সভা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক জটিলতা, তথ্য হালনাগাদ এবং বরাদ্দসংক্রান্ত কিছু সমস্যার কারণে উপবৃত্তি বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত বকেয়া অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত উপবৃত্তির বকেয়া অর্থ পরিশোধ ও নিয়মিত বিতরণ নিশ্চিত করা হোক, যাতে অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ