গাইবান্ধায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক সমাবেশে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণপরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে শহরের কাচারি বাজার এলাকায় গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের গাইবান্ধা জেলা শাখা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজা খানম মিতা, সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়লা নাছরিন কলি, লিগ্যাল এইড সম্পাদক নিয়াজ আক্তার ইয়াসমিন, সদস্য বিথী বেগম ও তরুণ সদস্য বন্যা ইসলাম।
এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সাংবাদিক-কবি রজতকান্তি বর্মন, আদিবাসী-বাঙালি নেতা গোলাম রব্বানী মুসা, সাংবাদিক উত্তম সরকার ও ময়নুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, অনলাইন নিপীড়ন ও সামাজিক অনাচারের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র কিংবা রাস্তাঘাট— কোথাও নারীরা পুরোপুরি নিরাপদ নন। এটি শুধু নারীদের সমস্যা নয়, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বিষয়। কারণ নারীর প্রতি সম্মান ছাড়া কোনো সভ্য সমাজ গড়ে উঠতে পারে না।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে এখনো নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। তাই এ বিক্ষোভ সমাবেশ শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং একটি সামাজিক জাগরণের আহ্বান।
তারা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধের দাবি জানান। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ, সম্মান ও সহনশীলতার শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। এছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে একযোগে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল