দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দেশে ফেরার খবরে উচ্ছ্বসিত ও উজ্জীবিত দলের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, এ আগমন শুধু দলের নেতা-কর্মীর জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য আনন্দ ও আশার বার্তা বয়ে আনছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। তারেক রহমান দেশে ফিরে রাজধানীর গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন বলে জানা গেছে। এজন্য বাড়িটি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
জানা যায়, ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে যাবেন। সেখানে তাঁর মায়ের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেবেন। পরে বাসায় ফিরবেন। নেতা-কর্মীরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে ২৭৩টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
এ অবস্থায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরার খবরে তারা প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। জানতে চাইলে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তারেক রহমানের ফেরার খবরে নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর উৎসাহ-উদ্দীপনার বিষয়টি বলে শেষ করা যাবে না। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে দেশবাসী অধীর অপেক্ষায় রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে সারা দেশের মানুষই উচ্ছ্বসিত। আগমনের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণায় নির্বাচনের আশঙ্কা এবং ষড়যন্ত্রও ভেসে যাবে। বিএনপির সিনিয়র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এ খবর শুনে আরও উদ্বেলিত। সবাই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাদের নেতা যেদিন বাংলাদেশে পা রাখবেন, সেদিন যেন সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। আমরা সেই দিন গোটা বাংলাদেশের চেহারাকে বদলে দিতে চাই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, সরকার তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশে ফিরলে তাঁর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
জানা গেছে, গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নামজারি সম্পন্ন করে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের থাকার জন্য বাড়িটি উপযোগী করে তোলা হয়েছে। বাড়ির ভিতর-বাইরে সাজসজ্জা করা হয়েছে। চারপাশে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও কাঁটাতারের বেষ্টনি। বাড়ির নিরাপত্তায় বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট। ১৯৮১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এ বাড়িটি বরাদ্দ দেয় তৎকালীন সরকার।
দেড় বিঘা জায়গায় নির্মিত বাড়িটি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সরকারের সময় খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এখন নামজারি হয়েছে তারেক রহমানের নামে। বাড়িটিতে তিন বেড, ড্রয়িং, ডাইনিং, লিভিং রুম, সুইমিংপুলসহ আধুনিক সব সুবিধা রয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির পাশেই ছেলের অবস্থান দলীয় কার্যক্রমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তারেক রহমান রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে।