গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, ১৬ মাসে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখলাম, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারার কারণে আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা আজকে গুপ্তহত্যা শুরু করেছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যে ভুলভ্রান্তি আমরা দেখলাম, বিশেষ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে সরকারের অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং এই উপদেষ্টাদের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা, আমরা অনেক কিছু দেখেছি। তারা আমাদের সব সময় সংস্কারের কথা বলেছিল, তারা এমন একটা রাষ্ট্র উপহার দেবে, যেখানে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা হবে। একটা উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র, আমেরিকা ইউরোপের মতো রাষ্ট্র ব্যবস্থা, তার কোনো কিছু আমরা দেখি নাই।
রাশেদ খান বলেন, আমরা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে স্বাধীন হয়েছিলাম, স্বাধীনতার এতো বছরে বা বিজয়ের এতো বছরে এখনও কিন্তু আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও মানবিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র এখনও প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি, এখনও পর্যন্ত আমরা বলছি নতুন রাষ্ট্র, ঠিক ওই সময় যারা মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন, তারাও একই কথা বলেছিলেন, একটা নতুন বাংলাদেশ, একটা নতুন রাষ্ট্র। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেই নতুন রাষ্ট্র যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার থাকবে, সেটি আমরা এখনও প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগ যারা নিজেদের সব সময় মুক্তিযু্দ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করেছে, সেই আওয়ামী লীগ কিন্তু গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার, যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, চলাফেরার নিরাপত্তা থাকবে, যেখানে আসলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে, সে ধরনের বাংলাদেশ কিন্তু আমরা গঠন করতে পারিনি। বিশেষ করে ১৪ সালের নির্বাচন, ১৮ সালের নির্বাচন, ২৪ সালের ডামি নির্বাচন, এই যে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই কারণেই কিন্তু চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান হয়েছে, এই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার ছাত্র জনতা শহীদ হয়েছে আমরা দেখেছি, কিভাবে গণ-অভ্যুত্থানের সময় নির্বিচারে গুলি করে শিশু থেকে বৃদ্ধ এবং তরুণদের এমনকি আমাদের মা-বোনদের হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ধরনের অতীতে আর ফিরে যেতে চাই না। আমরা মনে করি, আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। সে লক্ষ্যে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন হতে হবে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নির্বাচন, যদি সরকার সেটি জাতিকে উপহার দিতে পারে।
তিনি বলেন, আমি আমার বক্তব্যে বলেছিলাম, আওয়ামী লীগ একটা মিশন নিয়েছে, প্রায় ৫০ জন প্রার্থীকে তারা হত্যা করবে, এটা তারা কিন্তু শুরু করেছে। আমরা দেখলাম, আমাদের একজন বিপ্লবী যোদ্ধা, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, বিশেষ করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যিনি লড়াই করছিলেন, সেই যোদ্ধা ওসমান হাদি ভাইকে কিভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় গুলি চালানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সেই আসামিদের গ্রেফতার করা যায়নি।
এসময় গণ অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত