বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের বর্তমান সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি, বাক-স্বাধীনতা এবং একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে কবিদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
জাতীয় কবিতা পরিষদের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর তারেক রহমান বলেন, ‘পুরোনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে হবে। যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার সময়েই দেশের প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত উন্নয়ন শুরু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে পাঠ্যসূচিতে নাচ, গান, কবিতা ও আবৃত্তিসহ শিল্পকলার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’কে বহুমাত্রিক রূপে ফিরিয়ে আনা হবে। কবিদের প্রস্তাবিত ‘কবিতা ভবন’ বা ‘কবিতা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের জন্য কঠিন কিছু হবে না।’
সভার শুরুতে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, ১৯৭১ সালের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার রক্ষায় পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্র গোষ্ঠীর আস্ফালন শুরু হয়েছে, যারা আমাদের হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতিকে রুদ্ধ করতে চায়। অন্ধকারের এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কবিরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
তিনি আরও জানান, আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সংস্কৃতি বিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা’ স্লোগানে জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বিগত সরকারের আমলে কবিতা পরিষদকে দলীয়করণের চেষ্টার সমালোচনা করেন। তিনি শিল্প-সাহিত্যিকদের জন্য পৃথক ‘শিল্পী-সাহিত্যিক কার্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন। এছাড়া, বর্ষীয়ান কবি মতিন বৈরাগী কলমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিক আবু সাঈদ খান স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষ সংবাদপত্রের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে রুখতে কবি-সাহিত্যিকরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় বিএনপি জাতীয় কবিতা পরিষদের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য বর্ষীয়ান কবি মতিন বৈরাগী, কবি ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।
এছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি এবিএম সোহেল রশিদ, কবি শ্যামল জাকারিয়া, কবি নুরুন্নবী সোহেল, কবি ইউসুফ রেজা, কবি শাহিন চৌধুরী, কবি আসাদ কাজল, কবি জামসেদ ওয়াজেদ, কবি রোকন জহুর, কবি শিমুল পারভীন ও কবি নাহিদ হাসান।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত