শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হলেই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।
তিনি বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষ এখনও পূর্ণাঙ্গ অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিকভাবে সফল করতে পারে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল লেবার রিপ্রেজেন্টেটিভ কনভেনশন ২০২৬’-এ উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম।
মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, প্রত্যেক শ্রমিক তার শ্রম অনুযায়ী ন্যায্য ও যৌক্তিক মজুরি পাওয়ার অধিকার রাখে। শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। পাশাপাশি নিয়মিত বিশ্রাম, সাপ্তাহিক ছুটি ও অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম ভাতা পরিশোধের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হলে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার রয়েছে। ইসলামী শ্রমনীতিতে এসব অধিকারের সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি পরিশোধের নির্দেশনা দিয়েছে। শ্রমিকদের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের বোঝা না দেওয়া, মানবিক আচরণ করা, বিশ্রাম ও ইবাদতের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সুনির্দিষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে কাজ পরিচালনার বিধান ইসলামে রয়েছে। ইসলামী অনুশাসন মেনে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক শ্রম বন্ধ করতে হবে। আসন্ন কোরবানির ঈদের আগেই শ্রমিকদের সব বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঈদে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে।
কনভেনশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মাওলানা নোমান মাজহারী, যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আবুল হাসান এমপি এবং সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশন প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ।
কনভেনশনে ৭ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গিয়ে শেষ হয়।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ