Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪৬

আমীরুল ইসলাম-এর গল্প

নদীর নাম ছেলেবেলা

নদীর নাম ছেলেবেলা

নদীর নাম ছেলেবেলা।

তোমরা ভাবছ এ আবার কেমন কথা? কোথায় এই নদী। এই নদী আমাদের বুকে। এই নদী আমাদের জীবনে

একবার এক কবি বলেছিলেন,

নদী তুমি কোথা হইতে আসিয়াছ?

নদী উত্তর দেয়,

তোমার শৈশব হইতে।

নদীর জন্ম হয় ছেলেবেলা থেকে। আর কারও জীবন যদি কাটে নদীর তীরে তাহলে তো তার নামও একদিন হয়ে যাবে নদী।

এরকমই এক ছেলের নাম ‘বাবু।’ ‘বাবু’ আসলে নাম না। ওকে আদর করে সবাই ‘বাবু’ ডাকতে ডাকতে এর নাম হয়ে গেল বাবু। বাবু মানে ছোট্ট শিশু।

বাবু থাকে নদীর তীরে। যেখানে অনেক ফুলের মেলা। বাবু সাঁতার কাটতে জানে। ছোট্ট নৌকা চালাতে জানে। পাখির বাসা থেকে পাখি ধরতে জানে। ইঁদুরের পেছনে এক দৌড়ে গিয়ে দেখে আসে ইঁদুরের বাসা। নদীর তীরে বালু খুঁড়ে বের করে আনে কাছিমের ডিম।

বাবু এমন ধরনের কাজ অনেক পারে। বাবুর সাহসও অনেক। একবার সে হাতে ইট নিয়ে শেয়ালের পেছন পেছন দৌড় দেয়। তারপর বাঁশ ঝোপের পেছনে গিয়ে ভড়কে যায়। দেখে অনেকগুলো শেয়াল তাকে ঘিরে ধরেছে। তারা সবাই তাকে ঘিরে হেঁড়ে গলায় হাঁক দিচ্ছে।

কিন্তু বাবুর মনে কোনো ভয় নাই। একবার সে বাঁ দিকের শেয়ালটার দিকে তেড়ে যায়। একবার ডান দিকের শেয়ালটার দিকে তেড়ে যায়। শেয়ালেরা খুব চালাক জ্ঞানী। একটু এগোয় আবার একটু পেছোয়। এই ভাবে বাবুকে ক্লান্ত করে ফেলে।

এমন সময় শোনা যায় হই হই শব্দ। দলবেঁধে লাঠি হাতে কারা যেন আসছে। ঝোপের এপাশ থেকে তখন বাবু চিৎকার করে ওঠে, বাঁচাও। বাঁচাও।

লাঠি হাতে দলটা তখন বাঁশের ঝোপের পাশে এসে পড়েছে। শেয়ালগুলো ‘হুককা হুয়া’ শব্দ তুলে তখন দে দৌড়। চোখের নিমেষে শেয়ালগুলো ছুটল নদীর দিকে। কোন দিকে যে গেল তারা কেউ জানে না।

বাবু দেখল বাবা সবার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে তার তেল চকচকে লাঠি। বাবা বললেন, এত বড় সাহস তোর? শেয়ালদের সাথে লড়াই কি করা যায়?

বাবু কিছু বলে না। তার আপসোস শেয়াল গুলো পালাল কোথায়?

অন্তত একটা শেয়ালকে সে ক্ষত করতে পারত!

বাবা বকা দিয়ে বললেন, চল। বাড়ি চল! শেয়াল কুকুরের সঙ্গে লড়াই করা ঠিক না!

বাসায় ফিরতেই মা খাবার দাবার তুলে দিলেন পাতে। মলা মাছের চচ্চড়ি আর বেগুন ভাজা। পেটে খুব খিদা ছিল। গপগপ করে ভাত খেল বাবু। পেট ভরে ভাত খেতে খুব মজা পায় সে। মা খুব আদর মাখা চোখে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

ছেলে মন দিয়ে তৃপ্তি নিয়ে ভাত খাচ্ছে- এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ কি হতে পারে!

দুই.      

নদীর তীরের বাবু

হয় না শীতে কাবু,

উড়তে পারে

নদীর তীরের বাবু

সরল সোজা হাবু।

তিন.

বাবু একদিন শহরে যাবে। নদীর ওপারে গাড়ি। তারপর রেলস্টেশন। ট্রেনে চড়লে ময়মনসিংহ।

ময়মনসিংহ একটা বড় শহর। বড় বড় দালান কোঠা। রাস্তা জুড়ে বড় বড় গাড়ি। সুন্দর সুন্দর মানুষ। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। এসব দেখে খুব অস্থির লাগছে বাবুর।

দুদিনের বেশি সে শহরে থাকতে পারেনি। কাঁদতে কাঁদতে আবার সে নদীর তীরে ফিরে আসে। নদীর তীরে ফুলের মেলা। নদীর জল ছলছল করে। নদীতে আকাশের ছায়া পড়ে। নদী বড় মায়াবী নদীর তীরে বেড়ে উঠতে থাকে বাবু।


আপনার মন্তব্য