শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুন, ২০২১ ২৩:২০

গোপন পাসওয়ার্ড

জগন্নাথ চৌধুরী

গোপন পাসওয়ার্ড
Google News

কোটিপতি প্রিয়তোষ বাবুর একমাত্র মেয়ে প্রিয়তা। সবে তৃতীয় শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে উঠেছে এ বছর। পড়ালেখার মাথা খুব ভালো মেয়েটার। সবাইকে পেছনে ফেলে প্রতি ক্লাসেই প্রথম হয়। প্রতিদিনের মতোই তার মা নিবেদিতা মেয়েকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন। ড্রাইভার করিম মিয়া প্রিয়তাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে আসে রোজকার মতোই।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওসমান গনি সাহেব তাঁর অফিসের ডেস্কে বসে প্রয়োজনীয় কী একটা ফাইল নাড়াচাড়া করছিলেন! সেই সময় হঠাৎ একটা যুবক এসে হাজির হয় দরজার সামনে।

সালাম দিয়ে বললেন-

স্যার ভিতরে আসতে পারি?

ওসমান গনি স্যার বললেন, হ্যাঁ আসুন।

আগন্তুক যুবক বলল, আমি প্রিয়তা বণিককে নিয়ে যেতে এসেছি স্যার।

ওসমান গনি স্যার তখন বললেন, আপনার পরিচয়?

অগন্তুক যুবক বলল, আমি প্রিয়তার দূরসম্পর্কের কাকা।

ওসমান গনি স্যার জিজ্ঞেস করলেন, প্রিয়তাকে কেন নিয়ে যেতে এসেছেন?

আগন্তুক যুবক তখন বলল, হঠাৎ প্রিয়তার বাবা স্ট্রোক করে এখন হাসপাতালে। খুব খারাপ অবস্থা। শেষবারের মতো মেয়েটাকে একটু দেখতে চায়। তাই এসেছি স্যার।

আগন্তুক যুবকের কথা শুনে প্রধান শিক্ষকের মন একটু খারাপ হলেও কেমন জানি সন্দেহ লাগছিল তার।

তার পরেও দফতরিকে বেল দিয়ে ডেকে বললেন প্রিয়তাকে নিয়ে আসতে।

কিছুক্ষণ পর দফতরি হাসিম মিয়া প্রিয়তাকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে ঢুকলেন।

ওসমান গনি স্যার প্রিয়তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এই ভদ্রলোককে চেনো মা?

প্রিয়তা তখন বলল, না স্যার আগে দেখেছি বলে তো মনে হচ্ছে না।

ওসমান গনি স্যার বললেন, উনি বলছে তোমার বাবা অসুস্থ। এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তোমাকে দেখতে চেয়েছে একবার, তাই তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছে।

হঠাৎ করেই প্রিয়তা বলে উঠল-তাহলে স্যার উনাকে আমার মায়ের শিখিয়ে দেওয়া পাসওয়ার্ড বলতে বলেন।

কথা শুনেই আগন্তুক যুবকটা ঘাবড়ে গিয়ে আমতা আমতা করতে থাকে।

প্রধান শিক্ষক ওসমান গনি যুবকটাকে প্রশ্ন করার আগেই ছুটে পালিয়ে বের হয়ে যায় অফিস কক্ষ থেকে।

ওসমান গনি স্যার অবাক হয়ে প্রিয়তাকে জিজ্ঞেস করে- কীসের পাসওয়ার্ড মা?

প্রিয়তা তখন বলল, আমার মা বলেছেন অপরিচিত কোনো ব্যক্তি যদি সঙ্গে যেতে বলে, অবশ্যই তার শিখিয়ে দেওয়া গোপন পাসওয়ার্ডটা জিজ্ঞেস করে নিতে। যদি ব্যক্তিটি বলতে পারে তাহলেই তার সঙ্গে যেতে। অন্যথা বুঝতে হবে কোনো কুন্ডমতলব বা গোলমাল রয়েছে। প্রধান শিক্ষক একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে প্রিয়তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন তুমি ক্লাসে যাও মা।  আর প্রিয়তা যথারীতি নিরাপদে ক্লাসে ফিরে গেল।