কল্পনা করো তো, তোমার প্রিয় খেলনাটির একটি চাকা ভেঙে গেল আর রাতারাতি সেটি নিজে নিজেই ঠিক হয়ে নতুন চাকা গজিয়ে গেল! অবিশ্বাস্য লাগছে? কিন্তু প্রকৃতিতে এমনই এক অদ্ভুত প্রাণী-অ্যাক্সোলোটল। বিজ্ঞানীরা একে বলেন, ‘মেক্সিকান ওয়াকিং ফিশ’। মজার ব্যাপার হলো, এটি আসলে কোনো মাছ নয়, এটি এক ধরনের উভচর প্রাণী-যেমনটা আমাদের চেনা ব্যাঙ।
অ্যাক্সোলোটল দেখতে অনেকটা ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো। এদের গায়ের রং সাধারণত হালকা গোলাপি বা সাদাটে হয়। এদের মাথার দুই পাশে পালকের মতো তিনটি করে মোট ছয়টি ডালপালা থাকে, যেগুলো আসলে এদের ফুলকা। এ ফুলকা দিয়েই তারা জলের নিচে শ্বাস নেয়। আর সবচেয়ে সুন্দর হলো এদের মুখ। ছোট ছোট দুটো কালো চোখ আর চওড়া মুখের কারণে এদের দেখে মনে হয় তারা বুঝি সবসময় তোমার দিকে তাকিয়ে হাসছে! এটি পৃথিবীর সবচেয়ে অবাক করা প্রাণী হওয়ার কারণ তাদের শরীরের পুনর্গঠন ক্ষমতা। যদি কোনো কারণে এদের একটি পা, লেজ, এমনকি হৃৎপিণ্ড বা মস্তিষ্কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তারা সেটা একদম নতুনের মতো তৈরি করে নিতে পারে। মানুষের হাত কেটে গেলে সেখানে কেবল দাগ থেকে যায়, কিন্তু অ্যাক্সোলোটল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে একদম নতুন হাড়, রক্তনালি আর পেশি তৈরি করে ফেলে। বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে এদের এ ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে মানুষের চিকিৎসায়ও এটি কাজে লাগানো যায়। তা ছাড়া তোমরা কি ‘পিটার প্যান’-এর গল্প জানো? যে ছেলেটি কখনো বড় হতে চায় না? অ্যাক্সোলোটল ঠিক তেমনই। অন্য সব উভচর প্রাণী (যেমন ব্যাঙ) ছোটবেলায় ব্যাঙাচি থাকে এবং বড় হলে ফুলকা হারিয়ে ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেওয়া শুরু করে এবং জল থেকে ডাঙায় উঠে আসে। কিন্তু আমাদের বন্ধু অ্যাক্সোলোটল বড় হয়েও দেখতে ছোটবেলার মতোই থেকে যায়। তারা সারা জীবন জলের নিচে কাটায় এবং তাদের শৈশবের সেই সুন্দর ফুলকাগুলো হারায় না। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় নিওটেনি। এই অদ্ভুত হাসিখুশি প্রাণীদের দেখা মেলে কেবল মেক্সিকোর জোকিমিলকো হ্রদে। প্রাচীন আজটেক সভ্যতার মানুষ এদের দেবদূত মনে করত। তারা এদের নাম দিয়েছিল ‘অ্যাক্সোলোটল’, যার অর্থ হলো ‘জলদানব’। যদিও দানব বলতে আমরা ভয়ংকর কিছু বুঝি, কিন্তু এরা মোটেও ভয়ংকর নয়, বরং খুবই শান্ত প্রকৃতির।