Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩২

টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা

সম্মিলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই

টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউনেস্কোর ই-৯ ভুক্ত দেশগুলোকে চার ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। গত রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ই-৯’ ভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষামন্ত্রীদের তিন দিনের সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা হারে পিছিয়ে থাকা জোটভুক্ত দেশগুলোকে সর্বোত্তম কর্মোদ্যোগ বিনিময়, কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন, অংশীদারিত্বের নতুন উপায় উদ্ভাবন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংলাপের যে তাগিদ দিয়েছেন তাতে সময়ের দাবিই ফুটে উঠেছে। স্মর্তব্য, ১৯৯৩ সালে দিল্লিতে শিক্ষার হারে পিছিয়ে থাকা বিশ্বের ৯টি দেশের সম্মেলনে ‘ই-৯’-এর জন্ম। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এই জোটভুক্ত দেশগুলোতে বাস করে। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ নিরক্ষর মানুষের বাসও এসব দেশে। দেশগুলোর সাধারণ শিক্ষা বিষয়ক লক্ষ্যসমূহ নিয়ে এ সংস্থাটি কাজ করছে। ‘ই-৯’ ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশ, ব্রাজিল, চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া এবং পাকিস্তান। শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ এবং সশস্ত্র সংঘাত, মানবাধিকার, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। উদ্ভাবন, সমঝোতা এবং দূরদর্শী নীতির দ্বারা এসব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। যে বিষয়গুলোকে সামনে রেখে বাংলাদেশের শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা উপকরণ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের নেওয়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মূল লক্ষ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা, যে লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। ই-৯ ভুক্ত দেশগুলো অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এক সময় পিছিয়ে থাকা এ দেশগুলো পশ্চাত্পদতা কাটিয়ে অগ্রসর দেশগুলোর কাতারে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার  স্বপ্নও দেখছে। এ স্বপ্ন পূরণে নিরক্ষরতা দূরীকরণে যেমন যত্নবান হতে হবে তেমন উন্নয়নবান্ধব শিক্ষায় নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ই-৯ ভুক্ত দেশগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত এগিয়ে গেলেও অগ্রসর দেশগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখনো দৃষ্টিকটু বলে অভিহিত করা যায়। ৯টি দেশে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ নিরক্ষর মানুষের অবস্থানও লজ্জাকর বাস্তবতা। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে নিরক্ষরতা দূরীকরণে সম্মিলিত উদ্যোগের বিষয়টি স্বভাবতই প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার।


আপনার মন্তব্য