Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৭

গুনাহমুক্ত বা জান্নাতি হওয়ার আমল

আল্লামা মাহমূদুল হাসান

গুনাহমুক্ত বা জান্নাতি হওয়ার আমল

হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের পর নিয়মিত ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার’ ২১ বার এবং সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করবে আল্লাহপাক তার গুনাহ মাফ করে তাকে শহীদী মৃত্যু দিয়ে জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে সমাসীন করবেন। অনেকে মনে করতে পারে যে, শুধু এ আমল করলেই চলবে, অন্য কোনো আমল করা লাগবে না। এটা ভুল ধারণা। হাদিসের মর্ম হলো, যে ব্যক্তি নিয়মিত এ আমলগুলো করবে আল্লাহপাক তাকে মৃত্যুর আগে গুনাহ মুক্ত করে জান্নাতের উপযোগী বানাবেন। আমরা রুহের জগতে ছিলাম; সেখান থেকে মায়ের পেটের মাধ্যমে আল্লাহপাক দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। রুহের জগতের সঙ্গে দুনিয়ার জগতের কোনো সম্পর্ক নেই। মায়ের পেটের ভিতর রক্ত ভক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহপাক আমাদের সেখানে বাঁচিয়ে রেখেছেন। দুনিয়াতে আসার পর মায়ের দুধ পান করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। যারা শরাব পানে অভ্যস্ত তাদের তা ছাড়তে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু মায়ের পেটে রক্ত পান করার পর দুনিয়ার জীবনে এসে দুধ পান করার দ্বারা কোনো সুবিধা হচ্ছে না। আসলে আল্লাহপাক আমাদের মায়ের পেটের মধ্যে উপযুক্ত করে সৃষ্টি করেছেন যাতে দুনিয়ার জগতে চলতে ফিরতে কোনো অসুবিধা না হয়। এ জগৎ ছেড়ে পুনরায় চলে যেতে হবে। এখানে কোনো শক্তিশালী, অর্থশালী, আমলওয়ালাও টিকতে পারেনি, পারবেও না। এ জগৎ চিরদিন বসবাসের জায়গা নয়। এখানে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। যেমন মায়ের পেটে রাখা হয়েছিল দুনিয়ার প্রস্তুতির জন্য, তেমনি দুনিয়া ও কবরের জিন্দেগি রাখা হয়েছে আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। মানুষ আখেরাত বোঝে না, দুনিয়া বোঝে; তাতে সে বিভ্রান্ত হয়। মানুষ বলতে ওই ব্যক্তিকেই বোঝায় যার কাছে আসলে জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। এ মানুষকেই আখেরাতের বিষয়ে অবগত করানোর জন্যই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জগতের বুকে প্রেরণ করা হয়েছিল পবিত্র কোরআনের সংবিধান দিয়ে। তিনি জগতে এসে বহুসংখ্যক সঠিক মানুষ তৈরি করেছেন। দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি তার নবুওয়াতি মেহনতকে চালু রাখার জিম্মাদারি দিয়ে গেছেন উলামায়ে কেরামকে। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার হুকুম মানার মাধ্যমে তাকে খুশি করতে। এ মানুষ যদি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারে তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই মানুষকে পরাজিত করতে পারবে না। অপরদিকে যদি তাকে অসন্তুষ্ট করে তাহলে পৃথিবীর সব শক্তি আয়ত্তে আনলেও তাতে কোনো মঙ্গল হবে না। যে সমাজ ও রাষ্ট্র আল্লাহ ও রসুলকে সন্তুষ্ট রেখে কোরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে, সেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সব সমস্যা আল্লাহপাক দূর করে দিবেন। কোরআন-হাদিসের সংবিধান ছাড়া পৃথিবীতে কোনো শান্তি আসবে না, আসতে পারে না।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য