Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৩৯

রসুল (সা.) ছিলেন মানবসেবার সেরা উদাহরণ

মাওলানা মুহম্মাদ সাহেব আলী

রসুল (সা.) ছিলেন মানবসেবার সেরা উদাহরণ

ইসলামে মানবসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ছিলেন মানবসেবার সর্বোত্তম উদাহরণ। কিশোর  বয়সেই মানবসেবার উদ্যোগ নিয়ে তিনি মক্কাবাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন। আর্তমানবতার সেবা ও ক্ষুধার্তকে অন্নদান বিরাট সওয়াবের কাজ ও আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষার অনেক বড় মাধ্যম। বিশেষত আত্মীয়স্বজন, এতিম ও গরিব পাড়া-পড়শিকে অন্নদান করা হলে তাতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। প্রথমত, ক্ষুধার্ত ব্যক্তির ক্ষুধা দূর করার সওয়াব। দ্বিতীয়ত, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার ও আত্মীয়তা বজায় রাখার সওয়াব। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন ঘটেছিল হিংসা ও হানাহানিতে ভরা তৎকালীন আরব সমাজে। এ ঘুণেধরা সমাজকে তিনি আল্লাহ-প্রদত্ত বিধানের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন করেন। তিনি কৈশোর থেকে যৌবনের ৪০ বছর আগ পর্যন্ত মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত  রেখেছেন। তিনি এ মহতী কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। তাই তো মক্কার জনসাধারণ তাঁকে উপাধি দিয়েছিল আল-আমিন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসাধারণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োগ করেছিলেন। তিনি ‘হিলফুল ফুজুল’ বা সেবা সংঘের মাধ্যমে আর্তমানবতার সেবা, অত্যাচারিতের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের দ্বারা সব মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। এমনকি তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করলেন, ‘উন্নত চরিত্রের পূর্ণতা বিধানকল্পে আমি এ পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি।’ বিদায় হজে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের তথা প্রতিটি মুসলমানের  জান, মাল, সম্পত্তি, ইজ্জত, শরীরের চামড়া যেভাবে আজকের এই মহান ইয়ামুন্নাহারের দিনে, এই পবিত্র জিলহজ মাসে এই পবিত্র হারাম শরিফে হারাম ও সুরক্ষিত, ঠিক তেমনিভাবে সব দিন, সব মাস ও সর্বস্থানে হারাম ও সুরক্ষিত বলে গণ্য হবে। খবরদার! তোমরা আমার অবর্তমানে পুনরায় কাফিরদের মতো পরস্পর মারামারি, কাটাকাটিতে লিপ্ত হইও না।’ বুখারি। ইসলাম নিজেকে ভালোবাসতে শেখায় এবং অন্যকে ভালোবাসতে উদ্বুুদ্ধ করে। ইসলাম মানুষকে নিজের উন্নতি ও কল্যাণ এবং মানুষের সেবা, খেদমত ও কল্যাণের জন্য উদ্বুদ্ধ করে। আর তাতেই ব্যক্তি তথা সমাজ এক কথায় জাতীয় জীবনে নেমে আসতে পারে শান্তি। রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে মানবতার সেবায় নিয়োজিত হওয়ার তাওফিক দান করুন।

               লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য