Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৩

ক্ষমতায় থাকলে অনেক কিছু বোঝা যায় না

নঈম নিজাম

ক্ষমতায় থাকলে অনেক কিছু বোঝা যায় না

হায় মানুষের জীবন বড় অদ্ভুত। এখন এক নিষ্ঠুর বর্বর সমাজে আমাদের বাস। এখানে মায়া মমতা বলে কিছু নেই। সভ্যতার লেশমাত্র নেই। চারদিকে ভয়ঙ্কর চিন্তার মানুষদের আস্ফালন। ভয়াবহ অপরাধীদের সিনা উঁচু করে পথচলা। সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা মূল্যহীন। ফেনীর মেয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলো। মেয়েটিকে বাঁচতে দিল না ওরা। লোভ, হিংসা নষ্টামি ভর করেছে চারদিকে। ভালোভাবে এখন আর কেউ কিছু নিতে পারে না। আমাদের স্বপ্নরা শেষ হয়ে যাচ্ছে। চারদিকে জয়গান চলছে নিষ্ঠুরতার। অন্যায় ও অসঙ্গতির পরিমাণ এত বেড়েছে মানুষ ভালোমন্দের বিচার করতে পারছে না। বুঝে না বুঝে কখনো কখনো খারাপের পক্ষে জয়গান গাইছে। বাস্তব জীবনে কোথায় যেন শান্তির ছায়া হারিয়ে যাচ্ছে। অশান্তির অনল পান করে মানুষ বিভ্রান্তিতে গা ভাসাচ্ছে। সময়টাই বড্ড অস্থির। কোনো কিছুই এমন হওয়ার কথা ছিল না। স্বাভাবিকতাই ছিল প্রত্যাশার আলোকরশ্মি। স্বপ্ন ছোঁয়ার জয়যাত্রার ধারাবাহিকতার আলোর মিছিলই দেখতে চেয়েছিলাম। কারণ মানুষের মাঝে এত হিংসা-বিদ্বেষ আমাদের ছোটবেলায় দেখিনি। পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ দেখেছি। একজনের বিপদে দশ গ্রামের মানুষ ছুটে আসত। এক বাড়ির ভালো খবরে দশ বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ হতো। হিংসা-বিদ্বেষ ছিল না তা নয়। ছিল। হানাহানি-সংঘাতও ছিল। কিন্তু সবকিছু দৃশ্যমান ছিল। মানুষ বুঝতে পারত পরস্পরকে। ইতিবাচক চিন্তার মানুষই বেশি ছিল। এখন কিন্তু তা নয়। এখন ভালোর সন্ধান পাওয়াই মুশকিল। অন্যের কল্যাণ কামনায় দিন কাটত মানুষের। সবকিছু কেমন যেন বদলে গেছে। হাইব্রিডের এই যুগে সবকিছুতেই ফরমালিন, ভেজাল আর দুই নম্বরি। ইতিবাচক চিন্তাকে জাগিয়ে রাখা এই যুগে বড়ই কঠিন। খারাপের পক্ষেই অবস্থান নিয়ে মানুষ আনন্দ পায়। ইতিবাচক চিন্তাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। পেশাজীবীদের দলবাজি আর দলকানা অবস্থানে মরে যাচ্ছে স্বপ্নরা। স্তম্ভিত সমাজ! এই ভয়াবহতার উত্তরণে বৈশাখী ঝড় তুলে নতুন প্রজন্ম একমাত্র পারে আমাদেরকে বের করে আনতে। ইতিহাসকে জাগিয়ে তুলতে। অন্যায়কে ম্লান করে আলোর শিখা জ্বালিয়ে দিতে। আগামীকে অর্থপূর্ণ করতে।

পুরাতন সবসময় জরাজীর্ণ। তাই নতুনের কেতন উড়লে হতাশার ছায়া আর থাকে না। তখন বিলুপ্ত হয় মৃত্যু ও ধ্বংসচিন্তা। সেদিন এক সহকর্মীর শরীর কেমন জানতে চাইতেই বলল, ভালো নেই। যে কোনো দিন মরে যাব। ভয় পেলাম। সঙ্গে সঙ্গে তার ডাক্তারকে ফোন করি। ডাক্তার বললেন, সব ঠিক আছে। কোনো সমস্যা নেই। সমস্যাটা হলো ওনার মনে। উনি কেবলই বলছেন, হে মৃত্যু! আসো আমার কাছে। মনোবিজ্ঞানে মানুষ অনেক সময় নিজেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনে। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তা করে। ওনার হয়েছে তাই। ডাক্তারের বক্তব্য শুনে সহকর্মীকে এবার বললাম, আমরা সবাই চলে যাব। কেউই থাকব না। যেতেই হবে। দুনিয়ায় কারও থাকার সুযোগ নেই। দেখো যখন তখন যে কেউ চলে যাচ্ছে। ডাক্তার লিটু কি জানতেন এভাবে অকালে চলে যাবেন? বন্ধু মেজর (অব.) জাহাঙ্গীর হঠাৎ চলে গেলেন। কেউই তাকে রাখতে পারেনি। দুই দিনের এই দুনিয়া। আজ আছি কাল নেই। তোমার নিজেকে ভালো আছি মনে কর। মিথ্যা অহংকার নিয়ে আমরা বসে থাকি। বুঝি না এখানে দাম্ভিকতার কিছু নেই। বিনা কারণে ভয় ঢুকে যাচ্ছে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মনে। বন্ধু সহকর্মী আমার কথা শুনলেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো সংশোধন আসেনি। ভয়াবহ একটা ভীতির মাঝে তার দিন কাটে। নিজের কাছে সবসময় মনে হয়, আমি চলে যাচ্ছি।

বাস্তবে মৃত্যু দুই ভাবে আসছে। একটি স্বাভাবিক, আরেকটি অস্বাভাবিক। নির্মল সেন জীবিত থাকলে এ যুগের কর্মকাণ্ড  দেখলে কী লিখতেন জানি না। তবে অনেক সময় না দেখা অস্বাভাবিকতা নিয়ে বলা যায় না। লেখা যায় না। একটা রক্তক্ষরণ হচ্ছে সমাজের অভ্যন্তরে। মনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা অস্বস্তি, অশান্তিই মানুষকে দাবানলের মতো জ্বালাচ্ছে। নুসরাতের বলিদান বাড়িয়ে দিয়েছে মানুষের অন্তর্জ্বালাকে। এ অবস্থান দেখতে চাই না। সুস্থতা ও স্বাভাবিকতাই ফিরে চাই। কিন্তু কীভাবে আসবে? মানুষের নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে গেছে। নকল-ভেজাল ছাড়া ব্যবসা হয় না। ঠকবাজি সবখানে। মাছ কিনলে ফরমালিন, ফল কিনলে খাওয়া যায় না। মিষ্টিতেও ভেজাল, ঈদের সেমাই পুরোটাই দুই নম্বর। জীবন রক্ষাকারী ওষুধেও নিস্তার নেই। দুনিয়াজুড়ে খাবারে কেউ ভেজাল মেশায় না। উৎসব এলে জিনিসপত্রের দাম কমায়। আমাদের রমজানে অথবা ঈদ এলে দ্রব্যমূল্য দ্বিগুণ হয়! শর্টকার্ট বড়লোক হওয়ার প্রবণতায় সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। একদিকে ধ্বংস হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সব ইনস্টিটিউট। অন্যদিকে ভেজাল ও হাইব্রিডে ধ্বংস হচ্ছে রাজনীতি। নষ্টামি আর ভণ্ডামি রাজনীতিকে গ্রাস করেছে। কমিটি বেচাকেনা হয় সব দলে সব সংগঠনে। আগে রাজনীতিবিদদের একটাই নেশা ছিল- মানুষের মন জয় করা। এখন আর মানুষের মন জয়ের দরকার নেই। নেতা হতে ভোট লাগে না। তাই জনগণকে পাত্তা দিয়ে কী হবে? ১৯৮৬, ’৯১ সালের নির্বাচনেও অনেক প্রার্থীর পক্ষে তাদের সমর্থকরা গ্রামের হাটবাজারে গামছা পেতে অর্থ তুলে ভোটের খরচ চালিয়েছিলেন। এখন এসব কথা কি একবারও ভাবা যায়? রাজনীতি এখন সব লভ্য ব্যবসা। এখানে প্রতিযোগিতা অর্থবিত্ত বানানোর। আদর্শ নিয়ে কারও ভাবনার কিছু নেই। কারণ আদর্শ পালিয়ে গেছে সমাজ থেকে। নীতি-নৈতিকতার সর্বতলানিতে আমাদের বাস।

মানুষের মনে কত সংশয় থাকে। জীবনের কত ঘটনা থাকে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে থাকে পরিবর্তন। আজ যা জরুরি কাল তা থাকে না। হিসাব-নিকাশ বড় কঠিন। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়নি এখনো। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা দক্ষ কর্মীর অভাব। ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে থাকার সময় চিকিৎসকের হঠাৎ প্রয়োজন পড়ে পাম্প করে ব্লাডপ্রেসার বাড়ানোর। এ যন্ত্রটি খুলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের হৃদরোগ ডাক্তাররা দেখেন নষ্ট। কোনো দিন ব্যবহার হয়নি, অথচ নষ্ট! সঙ্গে সঙ্গে একজন চিকিৎসক যোগাযোগ করেন ল্যাবএইডে। তারা তৎক্ষণাৎ সাড়া দেন। পাঠিয়ে দেন যন্ত্রটি। এ যন্ত্রই ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রেখেছে। বছরে ল্যাবএইড, ইউনাইটেড, স্কয়ারের চেয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে বাজেট কম মনে করার কারণ নেই। বাজেট আছে। রক্ষণাবেক্ষণ নেই। আর কেনাকাটায় হয় অনিয়ম। দেখার কেউ নেই। যারা দেখার দায়িত্বে তারাই জড়িয়ে পড়েন অনিয়মে। সমস্যা এখানেই। মেডিকেলে কলকাতাও এখন অনেক দূর গেছে। তাদের ডাক্তাররা মমতা আর বিজেপি নিয়ে ব্যস্ত নন। স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ আর ড্যাবের মতো প্রতিষ্ঠান দুনিয়ার কোথাও নেই। চিকিৎসকদের দলবাজি আইন করে নিষিদ্ধ করা জরুরি। শুধু চিকিৎসক নন, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিক্ষক- এসব পেশাজীবীর রাজনীতি নিষিদ্ধ না করলে আগামীর বাংলাদেশ হুমকিতে পড়বে। জিডিপি বাড়লেও সমস্যার সমাধান হবে না। কেউ রাজনীতি করলে তাকে পেশা ছাড়তে হবে। তিনি শুধুই রাজনীতি করবেন। পেশার নাম ভাঙানোর কী দরকার? যার যা কাজ তা তাকে করতে হবে। মূল্যায়ন হোক মেধা-মননের। দলবাজি আর পেশাকে কলুষিত করার মাধ্যমে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের কবর রচনা বন্ধ হোক। একজন দেবী শেঠি অথবা ফিলিপকো রাজনীতি করেন না। তারা তাদের কাজটি করেন গভীর মনোযোগ দিয়ে। দুনিয়ার অনেক বড় চিকিৎসককে দেখেছি, তাদের প্রতি কমিটমেন্টই মূল।

অতিদরদি দলবাজ, আদর্শহীন সুবিধাবাদীরা ক্ষণে ক্ষণে মত পরিবর্তন করেন। আজ জাসাস, জিসাস কাল কী করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট হয়? আজ জিয়ার সৈনিক কাল কী করে আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মী বনে যান? অনেক প্রশ্নেরই কোনো জবাব মেলে না। বার বার আদর্শচ্যুতরা কখনো কারও বন্ধু হতে পারেন না। তাদের ভালোবাসার কোনো বিশ্বস্ততা নেই। বাস্তবে অনেক সময় আসল ভালোবাসাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অমর প্রেমের সম্রাট শাহজাহানের ভালোবাসার অনেক মেরুকরণ ছিল। সম্রাট শাহজাহানের তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন আরজুমান্দ ওরফে মমতাজমহল। মমতাজকে বিয়ে করার আগে শাহজাহানের আরও তিনজন স্ত্রী ছিলেন। এর পরও তিনি আরও তিনটি বিয়ে করেন। মিথ আছে- মমতাজেরও আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। শাহজাহান মমতাজের স্বামীকে হত্যা করে তাকে বিয়ে করেন। এই শাহজাহানই আবার তার মেয়ের প্রেমকে স্বাভাবিকভাবে নেননি। একদিন শাহজাদি জাহানারার সঙ্গে তার প্রেমিক দেখা করতে আসেন। শাহজাহান মেয়ে জাহানারার প্রেমিককে আটক করেন। পরে তক্তার সঙ্গে পেরেক দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন। মেয়ের অশ্রু প্রমের বাদশাহর মন গলাতে পারেনি। সে সময় শাহজাহান ব্যস্ত ছিলেন প্রেমের সমাধি তাজমহল নির্মাণ নিয়ে। আর তাজমহল বানানোর সময়ই কন্যার প্রেমিককে হত্যা করেন বাদশাহ। দুনিয়া এক আজব জায়গা। মমতাজের মৃত্যুর পর শাহজাহান বিয়ে করেন মমতাজের আপন বোনকে। মোগল হেরেমের অনেক অজানা কাহিনি রয়েছে। শাহজাহান প্রথম তাজমহল বানানোর পর কালো পাথর দিয়ে আরেকটি মহল বানানোর উদ্যোগ নেন। আর তখনই একদিন তার পুত্র আওরঙ্গজেব পিতাকে আটক করেন। বন্দী করেন আগ্রা ফোর্টে। ১৪তম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজ মারা যান। আর পুত্রের হাতে বন্দী অবস্থায় মারা যান শাহজাহান। মৃত্যুর আগে বন্দী সম্রাট শাহজাহানকে সারাক্ষণ নজরবন্দি রাখা হতো। কন্যা ছাড়া আর কারও প্রবেশের অনুমতি ছিল না। এই একদিন নজরবন্দি থাকা অবস্থায় শাহজাহান তার নাতি আওরঙ্গজেবের পুত্র মুহাম্মদকে বলেছিলেন, ‘ক্ষমতার নিয়তির নিষ্ঠুরতা পুত্রের হাতে পিতাকে বন্দী হতে হয়। নাতিকে করতে হয় দাদার বন্দীদশার খবরদারি।’ জবাবে মুহাম্মদ বললেন, ‘দাদাজি! আমি সইতে পারছি না এভাবে আপনাকে দেখে। আমি চলে যাব ক্ষমতার রাজনীতির এই জটিলতর অবস্থা থেকে। সবাই থাকুক যার যার মতো। আমি থাকব না।’

হায় ক্ষমতা! ক্ষণস্থায়ী দুই দিনের জন্য। আজ আছি কাল নেই আমরা। একদিন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে প্রশ্ন করেছিলাম, নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ক্ষমতার সেরা সময়গুলোয় আপনার ভুলগুলো কি বুঝতে পারতেন? জবাবে তিনি হাসলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বলব না সবকিছু শুদ্ধ করেছি। চেষ্টা করেছি মানুষের জন্য কিছু করার। কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে অনেক কিছু বোঝা যায় না। ক্ষমতার বাইরে থেকে অনেক বেশি বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায়।’ আমি আবার প্রশ্ন করলাম- এভাবে বিদায় নিতে হবে বুঝতে পেরেছিলেন কি? জবাবে বললেন, ‘আমার সেনাপ্রধানসহ অনেকেই বেইমানি করেছিল। যাদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখে দায়িত্বে বসিয়েছিলাম আমি। আমি ভাবতাম ওরা আমার আপনজন। কিন্তু ওরাই আমাকে ডুবিয়েছিল। ওদের বিশ্বাসহীনতার কারণেই আমাকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। তবে আমি দুনিয়ায় একমাত্র ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রনায়ক যে এখনো রাজনীতি করছি। মানুষের দোয়া ছিল বলেই আমি টিকে আছি।’ কথা বাড়ালাম না। অন্য প্রসঙ্গে চলে গিয়েছিলাম। সাক্ষাৎকারের একটি অংশ টিভিতে প্রকাশও করেছিলাম। বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে বসে এখন জীবনকে কীভাবে উপলব্ধি করছেন জানি না। তিনিও ক্ষমতায় থাকার সময় যাদের ওপর বেশি বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন তারাই তাকে ডুবিয়েছেন। তার আস্থাভাজনরাই ওয়ান-ইলেভেনের পর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জেলে নিয়েছিলেন। ক্ষমতার রাজনীতি সারা দুনিয়ায় বড় নিষ্ঠুর! তোষামোদকারী চাটুকাররাই সবার আগে বদলে যায়। তার পরও ক্ষমতার রাজনীতি থাকে চাটুকারদের দখলে। তারা আহা বেশ বেশ বলেই সর্বনাশটা করে যায়। সত্য কথা যারা বলে তাদের বিরুদ্ধে দেয়াল তৈরি করে ক্ষমতাসীনদের সামনে। সেই দেয়ালের আড়ালে সত্যবাদীদের ইতিবাচক চিন্তা ক্ষমতাসীনরা দেখতে পান না, অথবা চাটুকাররা দেখতে দেন না। বাস্তবতা শুধুই আড়ালে ঢেকে যায়।

লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।


আপনার মন্তব্য