Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৬

বাড়ছে শিক্ষিত বেকার

সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি

বাড়ছে শিক্ষিত বেকার

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতের হার বাড়ছে স্পুটনিক গতিতে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। উচ্চশিক্ষিতের সংখ্যা বেপরোয়াভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাংশ তাদের নামমাত্র বেতন দিয়ে কাজ করাচ্ছে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খাটিয়ে যে বেতন দেওয়া হচ্ছে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানের পিয়নের চেয়েও কম। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বেকারের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিতের মধ্যে বেকারত্ব ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চ কর্তৃক পরিচালিত ‘কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার পর্যালোচনা ২০১৭’ শীর্ষক সমীক্ষামতে দেশে উচ্চশিক্ষিত অর্থাৎ স্নাতক-স্নাতকোত্তরের মধ্যে বেকারের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সে তুলনায় কম শিক্ষিতের মধ্যে বেকারের হার কম। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার মধ্যে বেকারের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্কিলস ফর টুমরোস জবস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কলেজগুলো থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা ৭০ শতাংশ বেকার থাকে এবং বাংলাদেশে বেকারের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি বছর ২১ লাখ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখের। কাজ পাচ্ছে না প্রায় ৮ লাখ কর্মক্ষম মানুষ।  বিশেষজ্ঞদের মতে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ বছরে ১০ লাখের বেশি উচ্চশিক্ষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করার মিছিলে যোগ দিলেও সে হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে না। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাও উচ্চশিক্ষিত বেকার সৃষ্টির জন্য অনেকাংশে দায়ী। কারণ, বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা নিজে কিছু করার মতো দক্ষতা সৃষ্টিতে ব্যর্থ হচ্ছে। শিক্ষিত বেকারের হার বৃদ্ধিকে সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সংকট উত্তরণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে; বেকারত্ব হ্রাসে যা চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


আপনার মন্তব্য