Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৪৩

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

লাভবান হবে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

প্রধানমন্ত্রীর বহুল আলোচিত ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন তিনটি প্রকল্প। বাংলাদেশের জন্য হতাশার দিক হলো এ সফরেও তিস্তার পানি বণ্টনে দুই দেশের মধ্যে প্রতিশ্রুত চুক্তিটি হয়নি। বাংলাদেশকে এ জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে দুই দেশের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ফেনী নদী থেকে ত্রিপুরার সাবরুম শহরের পানি সরবরাহে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করতে পারবে ভারত। চুক্তি ও সমঝোতাপত্র বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা ও মোদি যৌথভাবে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এগুলো হলো- খুলনায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’, ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে ‘বিবেকানন্দ ভবন’ ও ‘বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি আমদানি প্রকল্প’। প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন, বিগত এক দশকে আমাদের উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত যেমন মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি ও সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে। এসব বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে আসছে। বাংলাদেশ থেকে এলপিজি সরবরাহের ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যসমূহের জ্বালানি চাহিদা পূরণ অনেকাংশে সহজ হবে। শীর্ষ বৈঠকের পর ৩৮ দফা যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে দুই দেশের পক্ষ থেকে। এতে বলা হয়েছে দুই দেশের নদী কমিশনের টেকনিক্যাল কমিটিকে মনু, মহুরী, খোয়াই, গোমতী, দারিয়া, দুধকুমোর ও ভবিষ্যতে ফেনী নদীর পানি বণ্টনের চুক্তির জন্য একটা খসড়া চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যৌথ ইশতেহারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আহ্বানে সহমর্মিতা পোষণ করা হয়েছে। নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতেও ভারত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ার হতাশা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর ও দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতায় উভয় দেশ লাভবান হবে। জোরদার হবে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব।


আপনার মন্তব্য