শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:১২

আল্লাহর আদালতের কথা ভাবুন হে আখেরাত-ভোলা বান্দা

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

আল্লাহর আদালতের কথা ভাবুন হে আখেরাত-ভোলা বান্দা

‘বেশি বেশি পাওয়ার লোভ তোমাদের আমৃত্যু মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।’ সূরা তাকাসুর, আয়াত ১-২। মানুষের ‘চাহিদা’ এত বেশি যে অল্পে তুষ্ট হয় না কেউ। যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি পাওয়ার আশায়, বেশি লাভের নেশায় সে মোহাবিষ্ট থাকে। প্রয়োজনের চেয়ে, ধারণ ক্ষমতার বাইরে মানুষ খেতে পারে না, পরতে পারে না, করতে পারে না- এসব জানা সত্ত্বেও মানুষ অতিরিক্ত পাওয়ার নেশায় কত রকম অনিষ্টকর কাজের পেছনে যে জীবন নষ্ট করছে তা আমাদের চারপাশের মানুষকে দেখলেই বোঝা যায়। হজরত আলী (রা.) বলেন, মানুষের লাগামহীন চাহিদা সম্পর্কে সূরা তাকাসুর নাজিল হওয়ার আগে একটি হাদিস আমরা কোরআনের মতো আওড়াতাম। হাদিসটি হলো নবীজি (সা.) বলতেন, ‘আদমসন্তানের লোভ এক লাগামহীন ঘোড়ার মতো। তাকে যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও দেওয়া হয়, সে বলবে আমার আরও চাই, আরও চাই...। এমনিভাবে তার লোভ বাড়তেই থাকে। একমাত্র কবরের মাটি ছাড়া তার পেট কিছুতেই শান্ত হয় না।’ সূরা আদিয়ায় আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ এক ছুটন্ত লোভী ঘোড়ার মতো জীবনযপান করছে। নিজের স্বার্থে সে সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে তার এই তছনছ করা কার্যক্রম।’ এরপর আল্লাহ আসল কথাটি বলেন, স্বার্থের পেছনে ছুটে চলা মানুষ অবশ্যই তার প্রভুর প্রতি চরম অকৃতজ্ঞ। তাই তো প্রভুর বিধিনিষেধের কোনোরকম তোয়াক্কাই করে না তারা। বরং সে বস্তুগত ঐশ্বর্যের মায়ায় জর্জরিত। আরও ভালো থাকা, আরও ভালো পরা, ভালো খাওয়ার জন্য সে দুনিয়া-আখেরাত নষ্ট করে অন্ধের মতো জীবন পার করছে। এই ছুটে চলা দেখে আল্লাহর বড় মায়া হয়। তাই তো আফসোস জড়ানো ভাষায় আল্লাহ বলেছেন, আহারে! বান্দা কি জানে না, একদিন সে মরে যাবে এবং মরে যাওয়ার পর আবার তাকে ওঠানো হবে। জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আল্লাহর আদালতে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে তাকে। সূরা তাকাসুরেও ভিন্ন আঙ্গিকে একই কথা বলেছেন আল্লাহ, যখন মানুষের কবরের জীবন শুরু হবে, সত্যিকারভাবে সে দেখতে পাবে নশ্বর এই দুনিয়ার জীবনসম্পদ-পরিজন কিছুই না, কেউই না, তখন সে বুঝতে পারবে কী ভুলটাই না সে করেছে। সূরা তাকাসুরের শেষ আয়াতে আল্লাহ বলেন, তখন সে জাহান্নামকে চোখে দেখবে। আর তখনই সে দৃঢ় বিশ্বাস করবে, দুনিয়ার মোহে জীবন শেষ করাটা কত বড় ভুল ছিল তার। সেদিন তাকে প্রতিটি নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। প্রিয় পাঠক! কোরআনের আয়াতে আয়াতে পাতায় পাতায় আল্লাহ এভাবে মানুষকে দুনিয়ার মোহ থেকে সতর্ক থাকার উপদেশ দিয়েছেন। বার বার বলেছেন, এই দুনিয়া মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য। এটি আসলে একটি খেলাঘরের মতো। মৃত্যুঝড় এসে তোমার এই খেলাঘর গুঁড়িয়ে দেবে। তোমাকে নিয়ে যাবে আসল ঠিকানায়। সুতরাং সেই আখেরাতের জন্য প্রস্তুত হও। নিজের লোভ সংযত কর। পাশবিকতা নিয়ন্ত্রণ কর। তবেই তুমি দুনিয়ায় পাবে শান্তি, আখেরাতে পাবে মুক্তি। আল্লাহ সবাইকে পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তাওফিক দিন।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন।


আপনার মন্তব্য