শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:২৪

ট্রাম্পইজমের কবলে আমেরিকা

তুষার কণা খোন্দকার

ট্রাম্পইজমের কবলে আমেরিকা

২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকে আজ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের সব সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করে আছেন। তাঁর কাজ কিংবা কথাবার্তার মধ্যে আমেরিকাবাসীর সুখ-দুঃখের প্রসঙ্গ যতবার উচ্চারিত হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশিবার নিজের হামবড়ামি জাহির করার জন্য সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছেন। ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারে নেমে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে বছর ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার পর দুনিয়াবাসী দেখল ট্রাম্পের নীতি আমেরিকা ফার্স্ট নয় বরং তিনি বিশ্বাস করেন ‘ট্রাম্প ফার্স্ট’। ট্রাম্প একা নন, তাঁর পরিবারও ফার্স্ট। ট্রাম্পের আত্মকেন্দ্রিক-পরিবারকেন্দ্রিক কাজ দেখে আমেরিকার বাঘা বাঘা মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বললেন, ট্রাম্প নার্সিসাস রোগে আক্রান্ত। তিনি তাঁর নিজের বৃত্তে আবদ্ধ আত্মকেন্দ্রিক একজন মানুষ। নার্সিসাস রোগে আক্রান্ত নিজের বাইরে আর কারও কথা কখনো ভাবে না। ট্রাম্পের কল্যাণে গত চার বছরে দুনিয়াবাসী নার্সিসাস সাইকোলজির নাম ঘন ঘন শুনেছে। আমরা সাধারণ মানুষ মনস্তত্ত্বের এত ঘোরপ্যাঁচ বুঝব না। বরং নার্সিসাস শব্দটি যখন আলোচনায় এলো তখন এ শব্দের উৎস খুঁজে নিলে হয়তো সহজে ট্রাম্পের নার্সিসাস রোগের ধরনটা অন্তত বুঝতে পারব। আমার বিশ্বাস এ গল্পটি আমাদের ট্রাম্পের অনেক কাজকারবার ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে। নার্সিসাস একটি ফুলের নাম। অপূর্বসুন্দর ঝুরিঝুরি ফুলগুলো ঝরনার ধারে ফুটে ঝরনার পানির ওপর হেলে থাকে। ওর চারপাশের অন্য গাছপালা কিংবা ফুল-পাখির দিকে নার্সিসাস ফুলের একটুও মন নেই। লোকে বলে, পানির ওপর ঝুঁকে পড়ে ফুলটি সারা দিন নিজের রূপ নিজে দেখে। গ্রিসে নার্সিসাস ফুলের জন্ম নিয়ে খুব পুরনো একটি কাহিনি আছে। অনেক অনেক দিন আগে গ্রিসে সেফিসাস নামে এক লোক ছিল। তার ঘরে ফুটফুটে সুন্দর একটি ছেলে জন্মালে সেফিসাস সাধ করে তার নাম রাখল নার্সিসাস। নার্সিসাস নামের অনিন্দ্যসুন্দর ছেলেটি বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল ছেলেটি দেখতে ভারি সুন্দর হলেও কাজে-কামে অকম্মার ধাড়ি। সে সারাক্ষণ নিজের রূপ নিয়ে মত্ত থাকে। তার চারপাশে কোনো মানুষের দিকে সে চোখ তুলে চেয়ে দেখে না। ছেলের লক্ষণ দেখে হতাশ বাপ-মা এক গণককে ডেকে ছেলে নার্সিসাসের ভবিষ্যৎ জানতে চাইল। সবকিছু দেখেশুনে গণক এক আজব সিদ্ধান্ত জানিয়ে গেল। গণক বলল, তোমাদের ছেলে নার্সিসাস কোনো দিন মানুষ হবে না। সে এমনই আত্মকেন্দ্রিক অকম্মার ঢেঁকি হয়ে জীবন পার করবে। তবে তোমাদের জন্য একটি সুখবর দিয়ে যাচ্ছি। তোমাদের এ পুত্ররত্ন পৃথিবীর বুকে অমর হয়ে থাকবে। নার্সিসাসের বাপ-মা গণকের কথার মানে বুঝতে পারল না। এমন অকর্মণ্য ছেলে কোন গুণে অমর হবে তা ভেবে ঠাওর করতে না পেরে চুপচাপ অপেক্ষা করতে লাগল। এদিকে নিজের রূপে নিজে মুগ্ধ নার্সিসাস একদিন গভীর বনে এক ঝরনার ধারে গিয়ে ঝরনার পানিতে নিজের ছায়া দেখতে পেয়ে মুগ্ধ হয়ে গেল। ভাবল, আমি এত সুন্দর! আহাহা! আমি দেখি রূপের ডালি। দিনের পর রাত নেমে এলো কিন্তু নার্সিসাস নিজের ছায়া থেকে চোখ সরাতে পারল না। ক্ষুধা-তৃষ্ণা ভুলে নার্সিসাস ঝরনার পানিতে তার নিজের রূপ নিজে দেখে আর পরম তৃপ্তিতে মাথা দোলায়। এভাবেই দিনরাত কাটতে লাগল। একসময় ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে ছেলেটি সে ঝরনার ধারে মরে পড়ে থাকল। ঝরনার ধারে যেখানে নার্সিসাস মরে পরে ছিল ওখানে একসময় একটি ফুল গাছ জন্ম নিল। সে গাছে অপূর্বসুন্দর ফুল ফুটে ঝরনার পানির ওপর হেলে পড়ল। রূপের বাহার ছুটিয়ে সারা দিনে ফুলগুলো থোকায় থোকায় ফোটে আর সারা রাতে টুপটাপ করে ঝরনার জলে ঝরে পড়ে। মনে হয় ফুলটি সারা দিন ঝরনার জলে নিজের ছায়া দেখে রাতে ঝরনার জলে ডুবে মরে। ফুলের রূপ আর স্বভাব দেখে লোকে তার নাম দিল নার্সিসাস। যে মানুষ নিজের জন্য বাস্তব আর কল্পনা মিশিয়ে একটি দুনিয়া তৈরি করে তাতেই মত্ত থাকে তাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন নার্সিসাস রোগে আক্রান্ত। ট্রাম্প নার্সিসাস রোগের রোগী এটি আমেরিকার ডাক্তাররা বলেছেন। আমরা দুনিয়াবাসী দেখছি আমেরিকার জনগণ ২০১৬ সালে ট্রাম্পের মতো একজন মানসিক রোগীকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করায় ২০২০ সালে আমেরিকার গণতন্ত্র কেমন ভয়ংকর গাড্ডায় পড়েছে। নির্বাচনে হেরে গিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ওপর আস্থা হারিয়ে ট্রাম্প আমেরিকায় ট্রাম্পইজম কায়েম করার মিশনে নেমেছেন। ট্রাম্পের মিশনের ফল হিসেবে আমরা দেখছি, আমেরিকার গণতন্ত্রের ঘরের পুরনো শালকাঠের শক্ত খুঁটি কেমন পাটকাঠির মতো মুটমুট করে ভেঙে পড়ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ২০১৬ সালে নির্বাচিত হয়ে হোয়াইট হাউসে ঢুকলেন তখনই তাঁর কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছিল তিনি আমেরিকার আর দশজন রাজনীতিকের মতো আমেরিকার নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি খুব একটা শ্রদ্ধাশীল নন। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩০৪টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে জিতে যাওয়ার পরও পপুলার ভোটে হিলারি ক্লিনটন প্রায় ৩ কোটি ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়েছিলেন। আমেরিকার মানুষ যখন হিলারি ক্লিনটনের ৩ কোটি পপুলার ভোট বেশি পাওয়া নিয়ে আলোচনা করছিল তখনই ট্রাম্প নাখোশ হয়েছিলেন। বলেছিলেন, হিলারি ক্লিনটন কোনোক্রমেই ট্রাম্পের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হতে পারেন না। হিলারি ক্লিনটনের ৩ কোটি ভোট বেশি পাওয়া নিয়ে তিনি অনেকবার উপহাস করেছেন এবং বলেছেন এর মধ্যে অবশ্যই কোনো জাল জোচ্চুরি আছে। আমেরিকার নির্বাচনব্যবস্থায় পপুলার ভোট বেশি পেয়ে হেরে যাওয়া নতুন কিছু নয়। আমেরিকার ইতিহাসে আগেও অনেকবার এমনটি ঘটেছে। আসলে আমেরিকার নির্বাচনে অনেক ধাপ আছে। ওখানে প্রতি রাজ্যের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক ইলেকটোরাল কলেজ বণ্টন করা আছে। কোনো রাজ্যে একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জনগণের ভোট বেশি পেলে সে রাজ্যের সব কটি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট বিজয়ী প্রার্থীর ঝুলিতে চলে যায়। তার ফলে দেখা যায় কোনো রাজ্যে ভোটার সংখ্যা অনেক। পরাজিত ও বিজয়ী উভয় প্রার্থী অনেক ভোট পেলেন এবং সামান্য ভোটে জিতে যাওয়া বিজয়ী প্রার্থী সব কটি ইলেকটোরাল কলেজ পেয়ে যাবেন। আবার যে রাজ্যে ভোটার সংখ্যা বেশ কম কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজ সংখ্যা আগের নিয়মেই রয়ে গেছে সেখানে বিজয়ী প্রার্থী সব কটি ইলেকটোরাল কলেজ জিতে নিলেও আমেরিকার মোট ভোট সংখ্যায় পরাজিত প্রার্থী থেকে পিছিয়ে পড়বেন। ২০১৬ সালে ৩০৪টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়ে মউজ-মস্তিতে মেতে ওঠায় দেশের মোট ভোটের হিসাব নিয়ে বেশি মাথা ঘামাননি। তবে হিলারি ক্লিনটন ২০১৬ সালে ট্রাম্পের চেয়ে ৩ কোটি ভোট বেশি পেয়েছিলেন এ তথ্য তাঁর মনে উদয় হলে মাঝেমধ্যে হুঙ্কার দিয়ে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করার চেয়ে বেশি কিছু করেননি। গত চার বছর ধরে যে কোনো সুযোগে তিনি বারবার বলেছেন হিলারি ক্লিনটন জাল-জালিয়তি করে ৩ কোটি ভোট বেশি ম্যানেজ করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বিজয় পাননি। কারণ ট্রাম্পের বুদ্ধি ও কৌশলের কাছে হিলারি হেরে গেছেন সেটি ট্রাম্প বারবার বলে বেজায় আনন্দ উপভোগ করেছেন। তখন ডাক্তাররা বলেছেন ট্রাম্প নার্সিসাস রোগী। এ লোক যেভাবে নিজের পিঠ নিজে চাপড়াচ্ছেন তাতে বোঝা যায় নিজেই নিজের বিপর্যয় ডেকে আনবেন। ২০১৬ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ৩ কোটি ভোট বেশি পাওয়ার কারণ খুঁজে বের করে ট্রাম্প নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দিলে ২০২০ সালে নির্বাচনে জয়ী হওয়া তাঁর জন্য অসম্ভব ছিল না। নার্সিসাস ট্রাম্প তাঁর চারপাশে এমন একটা ভাগ্যান্বেষী চাটুকার বাহিনী জড়ো করেছিলেন যাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা অবান্তর। চাটুকার বাহিনীর প্রতি ট্রাম্পের আনুগত্য কত নির্লজ্জ তার বড় প্রমাণ মাইকেল ফ্লিন। লোকটা আদালতে নিজেন মুখে স্বীকার করেছেন তিনি শপথ নিয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন অথচ সেই লোকটিকে ট্রাম্প রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতাবলে ক্ষমা করে দিয়ে আবার তাঁর আশপাশে ঘুরঘুর করতে দিয়েছেন। মাইকেল ফ্লিন বলছেন ট্রাম্পের উচিত আমেরিকায় সামরিক শাসন জারি করা। সামরিক শাসনের অধীনে আবার নির্বাচন দিলে ট্রাম্প নিশ্চয়ই জিতে যাবেন!

এদিকে দেখুন, গত চার বছর ট্রাম্পের চারপাশে যারা জড়ো হয়ে হোয়াইট হাউসের মধু লোটায় ব্যস্ত ছিলেন সেসব লোক এখন প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমা পাওয়ার জন্য দরখাস্ত দাখিল করে চলেছেন। এ সপ্তাহে সিএনএনের খবরে দেখলাম, প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমা পাওয়ার আবদার নিয়ে এত বেশি দরখাস্ত পড়েছে যে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তাদের তালিকা রাখার জন্য কম্পিউটারে স্প্রেড শিট খুলেছেন। আমেরিকায় দুটি সমস্যা এখন মানুষের জীবন-মরণ। এক. করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতি আর অন্যটি মানুষের জীবন-জীবিকার অনিশ্চয়তা। ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প তাঁর দেশের এ জ্বলন্ত দুই সমস্যা নিয়ে একটি কথাও বলেননি। তিনি সারাক্ষণ নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করার কাজে নিজের পটুতা জাহিরে ব্যস্ত আছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন যখন ইলেকটোরাল কলেজ ও পপুলার ভোট দুই হিসাবে এগিয়ে গিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে গেলেন তখন ট্রাম্পের মনে হলো আমেরিকার নির্বাচনব্যবস্থা তৃতীয় বিশ্বের মতো খারাপ। ডেমোক্র্যাটরা ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ট্রাক ভরে নিয়ে এসে ভোটের বাক্স ভরে দিয়ে গেছেন। তিনি একটানা দাবি করে আসছেন, মিশিগান, উইসকিনসিন, জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় বিপুল ভোট জালিয়াতি হয়েছে। দুঃখজনক সত্য হলো, এসব রাজ্যে রিপাবলিকান জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তারা সততার সঙ্গে ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প এ চার রাজ্যের রিপাবলিকান জনপ্রতিনিধিদের তাঁর নিজের পক্ষে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ার প্ররোচনা দিয়ে যখন টলাতে পারেননি তখন একজন রিপাবলিকান গভর্নরকে বিশ্বাসঘাতক দেশদ্রোহী বলে বসলেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিচার করলে এমন কথা তেমন ওজনদার কিছু নয় তবে আমেরিকার জন্য এটি ভয়ংকর অশুভ কথা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাবেন কিন্তু আমেরিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গায়ে তিনি যে বিশাল ক্ষত তৈরি করে যাচ্ছেন তা শুকাতে আরও অনেক সময় লাগবে। ২০২৪ সালে ট্রাম্প আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শামিল হবেন বলেই মনে হচ্ছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েও তিনি এখনো তহবিল সংগ্রহ করে যাচ্ছেন। পরাজিত হয়ে তিনি যত বেআইনি কাজ করছেন রিপাবলিকান পার্টি তাতে প্রতিবাদ করছে না। রিপাবলিকানদের ভীরু নীরবতা তাদের পার্টির জন্য কতখানি মরণঘাতী সে বোধবুদ্ধিও রিপাবলিকান নেতৃত্ব হারিয়ে ফেলেছেন। ট্রাম্পের জামাই ইয়ারেদ কুশনার বলেছেন, তার শ্বশুর রিপাবলিকান পার্টিকে হাইজ্যাক করে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে নিয়েছেন। ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টিকে কতটা নিজস্ব সম্পত্তি বানাতে পেরেছেন তা সময়ই বলে দেবে। তবে আমার বিবেচনায়, ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির কফিনে সফলভাবে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে আমেরিকার ৭ কোটি ভোটার রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করছেন এ ৭ কোটি মানুষ রিপাবলিকান পার্টির কেউ নন। এরা সবাই ‘ট্রাম্পইজমে’ বিশ্বাসী! ট্রাম্প এমন কথা বলার সাহস দেখাচ্ছেন কারণ, জরিপে দেখা গেছে নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন এমন ৭ কোটি ভোটারের ৮ শতাংশ বিশ্বাস করেন আমেরিকায় ভোট জালিয়াতি হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির মেরুদন্ডহীন নেতৃত্ব এখনো কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমে বিভোর। রিপাবলিকানদের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি ট্রাম্পিস্ট পার্টিতে পরিণত হবে কিনা জানি না, তবে রিপাবলিকান পার্টির মৃত্যু হলে আমেরিকায় ডেমোক্র্যাটদের একদলীয় শাসন কায়েম হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আগামী চার বছর আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য অগ্নিপরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

            লেখক : কথাসাহিত্যিক।


আপনার মন্তব্য