শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:২৭

স্বাগত ২০২১

করোনার অভিশাপ থেকে মুক্ত হোক বিশ্ব

নববর্ষ উদ্যাপন মানবসভ্যতার অনুষঙ্গ। দুনিয়াজুড়ে গ্রেগরিয়ান দিনপঞ্জি অনুযায়ী আজ নববর্ষ উদ্যাপন হচ্ছে। প্রতিটি মানুষের জীবনে বছরের প্রথম দিনটি বিশেষ তাৎপর্যের দাবিদার। নতুন বছরে পা দিয়ে মানুষ শপথ নেয় আগত দিনগুলোকে সুন্দরভাবে সাজানোর; বিদায়ী বছরের যা কিছু ভুলত্রুটি, যা কিছু গ্লানিময় পরিহার করার। শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, জাতীয়ভাবেও নতুন বছরটি ইতিবাচক হয়ে দেখা দেবে এমনটিই আশা করা হয়। সারা দুনিয়ার জন্য বিদায়ী বছরটি ছিল আতঙ্কে ভরা। বছরটি কেটেছে করোনা মহামারীর আতঙ্কে। এ মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছে কোটি কোটি মানুষ। প্রাণ হারিয়েছে কয়েক লাখ। বিদায়ী বছরে সারা দুনিয়ার মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে করোনার কারণে। জনশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ছিল উদ্বেগজনক। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল নিঃসন্দেহে স্বস্তির। করোনার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তা অবদান রেখেছে। পদ্মা সেতুর সব স্প্যান স্থাপনে দেশের উন্নয়নে আরও এক ধাপ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বিদায়ী বছরে। ইতিহাসের বিবেচনায় বাঙালি এক প্রাচীন জাতি। গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের অধিবাসীদের রয়েছে ৫ হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমাদের আধুনিক ইতিহাসও অহংকার করার মতো। জাতিগতভাবে বাঙালি যে সচেতন ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তা ফুটে উঠেছে ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য এ জাতির আত্মত্যাগে। প্রকৃতি উদারভাবে আমাদের দান করেছে উর্বর মাটি। এ মাটিতে বীজ বুনলেই সহজে ভরে যায় ফসলের মাঠ। এ দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় যত্ন পেলে সোনার খনিতে রূপান্তরিত হয়। মানবসম্পদে সমৃদ্ধ এ দেশকে দরিদ্র বলার অবকাশ নেই। বাংলাদেশের মানুষ প্রতিকূল অবস্থাকে জয় করার সাহসও রাখে। প্রকৃতি আমাদের সেভাবেই সৃষ্টি করেছে। আমাদের রয়েছে পরিশ্রমী মানুষ। ঐক্যবদ্ধভাবে প্রয়াস চালালে করোনাকালীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে এ জাতিকে সমৃদ্ধ বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়া কঠিন কিছু নয়। তবে এ জন্য দরকার জাতীয় ঐক্য। দরকার হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে শিরদাঁড়া সোজা করা। দরকার পারস্পরিক সহনশীল পরিবেশ। এ জন্য শুদ্ধ গণতান্ত্রিক চেতনায় আত্মস্থ হতে হবে। নতুন বছরে দেশে গণতন্ত্রচর্চা ও বহুমতের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সুদৃঢ় ঐক্য। গ্রেগরিয়ান নববর্ষে দেশ ও বিশ্ববাসীকে আমাদের শুভেচ্ছা।


আপনার মন্তব্য