শিরোনাম
সোমবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

আল্লাহর বিধান বর্ষ পরিক্রমা

মুহাম্মদ আশরাফ আলী

আল্লাহর বিধান বর্ষ পরিক্রমা

বর্ষ পরিক্রমা মহান আল্লাহর বিধান। দিনপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার কোথায় প্রথম চালু হয় তা আমাদের জানা নেই। তবে নানা তথ্যপ্রমাণে অনুমান করা হয় ইরাকের ব্যাবিলনে নববর্ষ পালনের প্রথা ছিল ৪ হাজার বছর আগেও। ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান নববর্ষ পালনের ইতিহাস ২০০ বছরের মতো। ইংরেজি দিনপঞ্জি তৈরি হয়েছে সৌরবর্ষ সামনে রেখে। চন্দ্র সূর্য সবকিছুই যেমন আল্লাহর সৃষ্টি তেমন চান্দ্রবর্ষ বা সৌরবর্ষ- যেভাবেই সময়কে ভাগ করা হোক, সবকিছুর নিয়ন্তা মহান আল্লাহ। সুরা আম্বিয়ার ৩৩ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- ‘আল্লাহ তিনিই যিনি সৃষ্টি করেছেন রাত, দিন, চন্দ্র ও সূর্য। এর প্রতিটিই পরিভ্রমণে নিয়োজিত রয়েছে নিজ নিজ কক্ষপথে, নিজস্ব গতিবেগ সহকারে।’ এ বিষয়ে সুরা ইয়াসিনের ৩৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- ‘সূর্য কখনোই চন্দ্রকে ধরতে পারবে না কিংবা রাত কখনো অতিক্রম করতে পারবে না দিনকে। প্রতিটিই পরিভ্রমণে নিয়োজিত নিজ নিজ কক্ষপথে, নিজস্ব গতিবেগ সহকারে।’

আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর খলিফার মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর হাবিবকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের মধ্য থেকে। মানুষের উচিত আল্লাহ প্রদত্ত সময় অর্থাৎ দিন, রাত ও বছরকে তাঁর নির্দেশিত পথে অতিবাহিত করা। এ বিষয়ে গাইডলাইন রয়েছে আল কোরআনের বিভিন্ন সুরায়। সুরা ফাতিহায় সরল পথ পাওয়ার জন্য এবং বিপথগামীদের পথ থেকে রক্ষা পাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সুরার ৫-৭ আয়াতে আছে, ‘তুমি আমাদের সরল পথ দেখাও, তাদের পথ যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, তাদের পথ নয় যারা ক্রোধে নিপতিত ও পথভ্রষ্ট।’ মানবজাতির সবারই আল্লাহর রহমত যে পথে সে পথ অনুসরণ করা উচিত। দ্বিতীয় সুরা বাকারার তৃতীয় আয়াতে রয়েছে, ‘সৎ জীবিকা থেকে ব্যয় করার আদেশ সৃষ্টিকর্তার।’ এ ব্যাপারটি প্রত্যেক মানুষ মেনে চললে পৃথিবীতে একটি সুষম সমাজ গড়ে উঠবে। সম্পদ বণ্টনে ভারসাম্য হবে। অসৎ উপার্জন থেকে মানুষ বিরত থাকলে পৃথিবীতে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। ৪২ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘মিথ্যার সঙ্গে সত্য না মিশিয়ে ফেলার আদেশ এবং জেনেশুনে সত্য গোপন না করার কথা।’ আল কোরআনের এ ঐশি শিক্ষার সফল বাস্তবায়ন ও চর্চা মানুষকে সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করবে এমনটি কাক্সিক্ষত। ৪৪ নম্বর আয়াতেই রয়েছে, ‘তোমরা কি মানুষকে ভালো কাজের কথা বল আর নিজেরা ভুলে থাক, আবার কিতাবও পড়? তবু কি তোমরা বুঝবে না?’ অর্থাৎ কোরআন পাঠ করলে ও উপদেশ দিলে হবে না, এর থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিজীবনে সৎ, সুন্দর হয়ে অন্যদের জন্য উদাহরণ হতে হবে। ৬০ নম্বর আয়াতেই রয়েছে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি না করার উপদেশ। ৮৩ নম্বর আয়াতে ‘এক সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের পাশাপাশি শিক্ষা রয়েছে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম-মিসকিনদের প্রতি সদয় হওয়ার আদেশ, মানুষের সঙ্গে সৎভাবে কথা বলার আদেশ।’ আল কোরআনে সর্বশক্তিমান আল্লাহ মানুষকে যেভাবে চলার উপদেশ দিয়েছেন সেভাবে চলার মধ্যে রয়েছে সত্যিকারের জাগতিক ও আখেরাতের শান্তি। আল্লাহ আমাদের আগামী দিনগুলো, বছরের প্রতিটি দিন তাঁর নির্দেশিত পথে চলার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

সর্বশেষ খবর