জীবনের কঠিন স্বাস্থ্য সংকটে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে একটা বেসরকারি হাসপাতালে। কদিন আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান হৃৎপিণ্ডের অস্ত্রোপচার করান একটা বেসরকারি হাসপাতালে। গত পরশু গুলিবিদ্ধ তরুণ রাজনীতিক ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত করা হয় সেই হাসপাতালে, যেখানে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন। ধনী ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা তো বটেই, ছোটবড় রাজনৈতিক নেতারাও সর্দিকাশির চিকিৎসা বা রুটিন চেকআপের জন্য ব্যাংকক সিঙ্গাপুর লন্ডন দুবাই যান। কথায় কথায় দাবি ওঠে-অমুককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হোক। হয়ও। জনগণের টাকায় তার ব্যয় বহন করা হয়। কারণ স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশে নির্ভরযোগ্য এমন একটা সরকারি হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি-যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের যে কোনো মানুষের জরুরি চিকিৎসার সক্ষমতা আছে। উপযুক্ত আধুনিক সরঞ্জাম এবং উচ্চপ্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী আছেন। যাঁদের পেশাদারত্ব আছে। এবং যেখানে উপযুক্ত পরিবেশও রক্ষিত হয়। একই অবস্থা শিক্ষায়। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিমান্বিত মর্যাদা ম্লান। বিশ্বের মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান লজ্জাজনক তলানিতে। সারা দেশে হাতে গোনা কিছু স্কুল-কলেজ ছাড়া, সাধারণভাবে শিক্ষাঙ্গনের পাঠদান ও ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক নয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি অন্যায্যতা, বঞ্চনার শেষ নেই। প্রাপ্ত সুযোগসুবিধায় তাঁরা হাসিমুখে সাধনার মহান ব্রত নিয়ে পাঠদানের পর্যায়ে নেই। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রগুলোও সমান বেহাল। অর্থাৎ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা-মানবসম্পদ উন্নয়নের তিনটি বড় খাতেই হযবরল অবস্থা। অথচ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ব্যাপক কাটছাঁটের মুখে পড়েছে এ তিন খাতই। এগুলো থেকে বরাদ্দ ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত কমছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশন সূত্র। আর্থিক সংকট, রাজস্ব ঘাটতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে নাকি সরকার সংশোধিত এডিপি বড় পরিসরে পুনর্বিন্যাস করেছে। আর এতে স্বাস্থ্য খাতেই বরাদ্দ সর্বোচ্চ ৬৩ শতাংশ সংকোচন দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো অত্যন্ত হতাশাজনক। কারণ এসব খাত শুধু মানবিক সুরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নই ঘটায় না, দারিদ্র্য হ্রাসেও অবদান রাখে। এগুলো কৃচ্ছ্রসাধনের ক্ষেত্র নয়। এখানে কাটছাঁট আত্মঘাতী। এ বিষয়ে নতুন করে ভাবুক সরকার।