আশায় বসতি যার তাহারে সাধ্য কার করিবে ছিন্নমূল। এটা কবিতার চরণ। তাই, কথাগুলো আক্ষরিকভাবে গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। কেননা বাস্তবে দেখা যায়, মানুষ ছিন্নমূল হয়ে যাওয়ার পরও আশায় বসত করে। আঁধার কেটে যাবে, কুয়াশা পেরিয়ে আসবে উদয়ের আলো এরকম ভাবনা-ই আশায় বসতি। একাত্তরে হানাদার বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ কোটি কোটি বাঙালি দিনাতিপাত করেছে আশায় আশায় : বিজয় নিশান হাতে আসছে ওই মুক্তিসেনার দল।
যারা বিজয় চায়নি, চেয়েছে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর পদভারে জর্জরিত ‘সোনার পূর্ব পাকিস্তান’ তাদেরও বসতি ছিল আশায়। ডিসেম্বরের প্রথম দিনে চারদিক থেকে চেপে ধরবার জন্য অগ্রসরমান মুক্তিবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে, দুর্বৃত্তদের দম বন্ধ হওয়ার অবস্থায়ও ওরা আশায় থেকেছে : সপ্তম মার্কিন নৌবহর আসছে ধেয়ে রঙিলা গোলাপ হাতে। অপশক্তির দোসরদের আশাবাদী হওয়ার যুক্তিও ছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজের মোড়লিসত্তা অটুট রাখার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৫০ থেকে ৭০টি রণতরি মোতায়েন করে। এরই নাম ‘সপ্তম নৌবহর।’ রণতরিগুলোয় রয়েছে ১৫০টি যুদ্ধবিমান যেগুলো নির্দেশ পেলেই উড়াল দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে ফিরে আসতে সক্ষম। একজন তিন তারকা ভাইস অ্যাডমিরালের কমান্ডে চালিত এই নৌবহরে থাকে ২৭ হাজার স্থল ও মেরিন সেনা। কথিত আছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের কুটবুদ্ধিতে (মুক্তিযোদ্ধাদের চোখ রাঙানোর মতলবে) সপ্তম নৌবহরকে বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোরতরবিরোধী এবং ঘাতক শাসক পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের সমর্থক রিচার্ড নিক্সনের সপ্তম নৌবহরবিষয়ক নির্দেশের খবর শুনে আনন্দনৃত্যে মেতে ওঠে হানাদার বাহিনীর অনুরাগী গোষ্ঠী। তারা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বর্ণাঢ্য সব গুজব ছড়াতে থাকে। যেমন সপ্তমের ডরে চাটগাঁয় তো দেড় হাজার মুক্তিফৌজ আত্মহত্যা করেছে। আমাদের এলাকায় রাজাকার বাহিনীর মুজর (মুজাফফর আলী) কমান্ডার আমার বড় ভাইকে বলে, সুইসাইড খাইয়া দুনিয়া ছাইড়ছে, ভালোই অইছে। সপ্তমের আমেরিকান সোলজারগো হাতে পড়লে কামানের গোলায় শরীরের হাড্ডি মাংস বেবাক পাউডার বানাইয়া ফালাইতো।
সপ্তম কি চিটাগাংয়ে নেমে পড়েছে? বড় ভাই জানতে চাইলে মুজর কমান্ডার বলে, এখনো নামে নাই ভাইসাব। নামতে আর ক সেকেন্ড! ধরেন গিয়া আটচল্লিশ কি বায়াত্তর ঘণ্টার মধ্যে ল্যান্ড করে ফেলবার সম্ভাবনা আছে শিয়োর। সেকেন্ড ও ঘণ্টা, নিশ্চয়তা ও সম্ভাব্যতা বর্ণনাকালে মুজরের মগজের পোকা যখন গোলমেলে আচরণ করছিল, সেই সময় তার বাড়ির কাছের বাজারের অতিসাধারণ মুদি দোকানি মজিদুল হোসেন, যার পড়ালেখা চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত, ছোট একটি কবিতা লিখে ফেললেন। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শহরের যুবকরা যে স্মরণিকা বের করে তাতে কবিতাটি জায়গা করে নেয়। কবিতায় আছে-‘তুমি এসো, এসে গহিন আঁধার নাশো/ ফুল আর ফসলে সুগন্ধি হয়ে হাসো/ তোমারই পথ চেয়ে জেগে রয় সবে/ প্রিয় বিজয়, তোমায় আসতেই হবে।’
২.
মজিদুলদের কাক্সিক্ষত বিজয় এসেছে। দেশবাসী অনেক মূল্য দিয়ে শত্রুসেনাকে পরাস্ত করেছে বলেই এই বিজয়। এজন্য মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীরা অবর্ণনীয় নির্মম অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। আবুল
মোমেন লিখেছেন- ‘এটি ধারাবাহিক নির্মমতার বিন্দু বিন্দু মুহূর্তের সমাহারে সৃষ্ট আত্মত্যাগের এক অমর দৃষ্টান্ত। প্রত্যেক শহীদের জীবনের অন্তিম অধ্যায়ের রক্তিম আখর দিয়েই আমাদের ইতিহাসের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়টি সাজানো, এ কথা আমরা যেন ভুলে না যাই।’
আশপাশে সামনে-পিছনে কালোর দৌরাত্ম্য দেখে যাঁরা হতাশায় ভোগেন হয়তো তাদের চাঙা করবার জন্যই জসীমউদদীন লিখে গেলেন-‘মায়ের ছেলেরা হবে নির্ভয়, সুখ হাসি ভরা ঘরে/ দস্যুবিহীন এদেশ আবার শোভিবে সুষমা ভরে।।’ বাঙালিরা স্বভাবত বিস্মৃতিপ্রবণ। প্রায়শ তাদেরকে তাদের গৌরবময় ইতিহাস আর উজ্জ্বল সন্তানদের বীরত্বগাথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে হয়, তোমরা পেরেছ। এখনো পারবে। বলবার বা লিখবার সুযোগ পেলে আমি বিস্ময়কর যেসব বিষয় আলোকপাত করি তাতে থাকে-এক. হেমায়েত বাহিনী, দুই. অপারেশন জ্যাকপট; তিন. কাদেরিয়া বাহিনী। শ্রোতাদের মজা দেবার জন্য মার্কিন সপ্তম নৌবহরের আলোয় অবগাহন প্রত্যাশী আমার পরিচিত দুই মহাশয়ের কাজ কারবারও মেলে ধরি।
একাত্তরে হানাদার পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে ওঠা বাহিনীগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি সংগঠক নেতার নামে বিখ্যাত হয়েছে। হেমায়েত বাহিনী সেরকমই এক বাহিনী। এর কমান্ডার ছিলেন হেমায়েত উদ্দিন। বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরবিক্রম উপাধিতে সম্মানিত করা হয়। তাঁর জন্ম ৩ ডিসেম্বর ১৯৩৭, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়। কবরও সেখানে। ২০১৬ সালের ২২ অক্টোবর তিনি মারা যান।পাকিস্তানি সেনাদের কাছে আতঙ্কের নাম হেমায়েত বাহিনী। এই বাহিনীতে ছিল ৪ হাজার মুক্তিসেনা; এর মধ্যে ৩০০ নারী। হেমায়েত একদা পাকিস্তানের এবোটাবাদ মিলিটারি একাডেমির প্রশিক্ষক ছিলেন। একাত্তরে ছিলেন জয়দেবপুর সেনানিবাসে। মার্চে তারা বিদ্রোহ করলেন। অনেক কষ্ট করে মধ্য এপ্রিলে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেই ক্যাম্প খুলে ছাত্র-যুবকদের ট্রেনিং দিতে থাকেন। যাঁরা ট্রেনিং নিলেন তাঁরাই ‘হেমায়েত বাহিনী’র সদস্য হিসেবে পরিচিত হন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল দুইটি। একটির প্রধান ওয়ারেন্ট অফিসার জবেদ আলী শেখ, অন্যটির প্রধান ইঞ্জিনিয়ার কোরের আবদুল খালেক।
হেমায়েত বাহিনীর অভিযানের অন্তর্ভুক্ত ছিল বরিশাল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকা। বাহিনী ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। চলত মিলিটারি কায়দায়। তাদের ছিল নিজস্ব হাসপাতাল ও নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার। জলপথে যুদ্ধ করার জন্য ছিল ৩৫০টি নৌকা। পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে ১৩ বার তাদের যুদ্ধ হয়েছে। সবচেয়ে বড় যুদ্ধটি হয় রামশীল নামক স্থানে। এখানে হেমায়েত মাত্র ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সঙ্গে নিয়ে ৪৫ মিনিট ধরে গুলিবিনিময় করেন এবং রুখে দেন পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ। এই যুদ্ধে তিনি গুরুতর আহত হন। হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রমের সঙ্গে আমার জানাশোনা ছিল। প্রশ্ন করি, যোদ্ধা হিসেবে আপনার বড় তৃপ্তি কী? তিনি বলেন : নিজের জন্মদিনে নিজ জেলা শহরকে শত্রুমুক্ত করা।
৩.
মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্যময় অধ্যায় নৌ-কমান্ডোদের চমকপ্রদ অভিযান যার নাম ছিল ‘অপারেশন জ্যাকপট’। নৌ-কমান্ডোদের উদ্দেশে আকাশবাণী বেতার কেন্দ্র থেকে দুই দিনে দুটি গান বাজানো হয়। ১৪ আগস্ট বাজানো হয় পঙ্কজ মল্লিকের গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত-‘আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলেম গান’ যার মানে ‘আঘাত হানতে প্রস্তুতি নাও।’ ১৫ আগস্ট বাজানো হয়-সন্ধ্যা মুখার্জীর গাওয়া-‘আমার পুতুল আজকে যাবে শ্বশুরবাড়ি’ যার মানে ‘ঘাঁটি ছেড়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগোতে থাকো।’ কমান্ডোরা ১৫ আগস্ট দিবাগত রাতে অর্থাৎ ১৬ আগস্টের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম বন্দরে লিমফেট মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাকিস্তানের দুইটি জাহাজ ‘হরমুজ’ ও ‘আল-আব্বাস’ ডুবিয়ে দেন। দুটি জাহাজে ছিল ২০ হাজার ৩২৮ টন অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এ হামলায় অংশ নেন ৩১ জন কমান্ডো। যাঁরা অংশ নেন তাঁদের অন্যতম ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক এখন অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।
ওই রাতে একই সময়ে চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মোংলা বন্দরেও কমান্ডো হামলা চালানো হয়। এতে পণ্য ও অস্ত্রবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবে যায়। নৌ-কমান্ডোরা নভেম্বর মাস পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে গেছেন, এতে ধ্বংস হয় ছোটবড় ১২টি জাহাজ। অপারেশন জ্যাকপটের নেতৃত্ব দেন ১০ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। তাঁর লেখা ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ বইতে আছে : জুন মাসে বিভিন্ন সেক্টর থেকে কমান্ডো রিক্রুট করা হয়। এঁদের স্বাস্থ্য মজবুত, ভালো সাঁতার জানেন। শুরুতে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁদেরকে আত্মঘাতী অভিযানে নামতে হবে। যাঁরা রাজি তাঁরা সম্মতিপত্রে সই দিন। সম্মতিপত্রে সই দিয়েছিলেন ৩০০ জন। অপারেশন জ্যাকপট গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দেয় : ‘মুক্তিযোদ্ধা নামের নাশকতাকারীদের দমন করা হয়েছে’ বলে পাকিস্তান সরকারের যে দাবি তা ভুয়া। মু্িক্তযোদ্ধারা আছে। তারা লড়ছে। লড়বে এবং বিজয় ছিনিয়ে আনবেই।
একাত্তরে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মুক্তাঞ্চল গড়ার কৃতিত্ব কাদেরিয়া বাহিনীর। দেশের ভিতরে থেকেই এ বাহিনী অস্ত্র সংগ্রহ করেছে, সংঘটিত হয়েছে এবং দুর্দান্ত সাহসিক আঘাত হেনে পাকিস্তানি বাহিনীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে। এর অধিনায়ক কাদের সিদ্দিকী যাঁকে জাতি ‘বীরউত্তম’ সম্মানে ভূষিত করে। পাকিস্তানি বাহিনীর ‘দুঃস্বপ্ন’ ছিল কাদেরিয়া বাহিনী। টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর এলাকায় বহেড়াতৈল নামক স্থানে ৪০০ ছাত্র-যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু। দিনে দিনে সংখ্যা বাড়ে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ হাজার। কাদেরিয়া বাহিনী দুশমনদের যাত্রাপথের দেড় শতাধিক সেতু গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গাছের ডালে বসে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে রাজাকার বাহিনীর ট্রাক উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের হাতে ৩ হাজারের বেশি পাকিস্তানি সেনার প্রাণ গেছে, বন্দি হয়েছে ১৩ হাজার রাজাকার ও হানাদার সেনা।
অসামান্য বীরত্বের জন্য কাদেরিয়া বাহিনীর ১৮ জন রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত হন। এই বাহিনীর একজন কিশোর সদস্যও ‘বীরপ্রতীক’ পদকে সম্মানিত হয়েছেন, তাঁর নাম শহীদুল ইসলাম লালু। বাহিনীর কমান্ডার কাদের সিদ্দিকী জীবদ্দশায় কিংবদন্তি হয়ে রয়েছেন। তাঁর ওপর নাটক ও সিনেমা হয়েছে। এই বাহিনীতে যোদ্ধা ছিলেন ১৭ হাজার, স্বেচ্ছাসেবক ৭২ হাজার। বাহিনীর মুখপত্র ছিল ‘রণাঙ্গন’ নামক পত্রিকা। বাহিনীর প্রশাসনিক বিভাগের প্রধান আনোয়ার উল আলম ‘রণদূত’ ছদ্মনামে পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন। কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে চলেছে কাদেরিয়া বাহিনী। কবি রফিক আজাদও এই বাহিনীতে ছিলেন। তাঁর লেখা এক কবিতার শেষাংশে আছে-‘তবুও তোমার কাছে আত্মসমর্পণে সুখ আছে/ কিন্তু সাবধান, কোথাও কখনো যদি তোমার সঙ্গে/ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দেখা হয়ে যায়, প্লিজ পায়ে পড়ি/ এ কথাটি ভুলেও বলবে না-/ কেননা, ন’মাসে আমরা তাঁর কাছে/ ‘হ্যান্ডসআপ’ করা কখনো শিখিনি॥’
৪.
জমির ও সুফিয়ান বন্ধু। তাঁরা আমার অত্যন্ত চেনা। তাঁদের পাকিস্তান প্রেম অদম্য। জমিরের স্থির বিশ্বাস সপ্তম আসবেই আসবে। একাত্তরের ডিসেম্বরে তাঁরা রাজধানীর টিকাটুলী এলাকায় এক বাড়ির তেতলায় আশ্রয় নেন এবং সপ্তম নৌবহরের অপেক্ষায় থাকেন। এক দুপুরে ভাত খেয়ে ঘুমাচ্ছেন জমির। সুফিয়ান সিগারেট ফুঁকছেন বারান্দায় দাঁড়িয়ে। হঠাৎ তাঁর নজর পড়ে পাশের রাস্তায়। দেখেন একটা জিপের বহর আসছে ডেমরার দিক থেকে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়ানো জনতা হর্ষধ্বনি করছে। সবার আগের জিপে দাঁড়ানো খাকি পোশাক পরা ব্যক্তি ডান হাত নেড়ে জনতার অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন। জমিরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে সুফিয়ান বলেন, ‘আয়! সপ্তম নৌবহর দেখবি।’ বাকি অংশ জমিরের মুখে শোনা। তিনি বলেন, খাকি পোশাক পরা সেই ব্যক্তি ছিলেন কে এম শফিউল্লাহ। ইনি ‘বীরউত্তম’ হয়েছেন। হয়েছেন সেনাপ্রধান। তিনি সেদিন তাঁর নেতৃত্বাধীন মু্িক্তসেনাদের নিয়ে ঢাকায় ঢুকেছিলেন বিজয় উদ্যাপনের জন্য।
লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন