ভালো নেই দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতি দুরবস্থায় থাকলে তার অপছায়া পড়ে জনজীবনে। ভালো থাকে না সাধারণ মানুষ। রাজনীতি ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা থাকলে অর্থনীতির জন্য বিসংবাদ বয়ে আনে। অর্থনীতি ভালো না থাকলে অসুস্থ রাজনীতি দেশ ও জাতির জন্য অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো নেই অভ্যন্তরীণ নানামুখী সংকটের কারণে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের অভাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক সংকট। আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বের একক পরাশক্তির নিষেধাজ্ঞার যে মচ্ছব চলছে, তার অপপ্রভাব এড়াতে পারছে না বাংলাদেশ। বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির টানাপোড়েন এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সামনে পাঁচটি বড় ঝুঁকি দাঁড়িয়ে আছে, বাংলাদেশের সামনে। যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠনের মতো ঘটনাগুলো আমাদের আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার দিয়ে হবে না, বৈশ্বিক ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল নিতে হবে। সতর্ক না হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। দেশের জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে ঝুঁকিগুলো আগেভাগে চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেওয়া। সুশাসন জোরদার, অপরাধ দমন, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে। অর্থনীতিতে যে সংকট চলছে তা মোকাবিলায় সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কথামালায় কোনো কাজ হবে না। নিজেদের স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব জনগণের প্রতি দায়বোধ অনুভব করে এমন রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনীতি ও অর্থনীতির ঘাড়ে দুর্বৃত্তায়নের যে দানব চেপে বসেছে তা উচ্ছেদেও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।