রাশিয়ার স্বনামখ্যাত ঔপন্যাসিক মিখাইল লেরমন্তভের ‘আমাদের সময়কার নায়ক’ উপন্যাসটি উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম পঁচাত্তরের ১ জানুয়ারি। খুলনার কেডিএ নিউমার্কেটের স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্সের বন্ধুবর আতিকের কাছ থেকে। যিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরপরই জড়িয়ে পড়েন সর্বহারা পার্টির সঙ্গে। মামলা ও হামলার শিকার হয়ে তাঁর পক্ষে এলাকায় থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে খুলনায় এসে স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্সে চাকরি নেন নাম ও পরিচয় গোপন করে। কালক্রমে স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্স হয়ে ওঠে বামপন্থিদের মিলনকেন্দ্র। নিউমার্কেট তথা আজকের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় জাসদ ছিল বেশ সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী দল। যার নেতৃত্বে ছিলাম আমি। ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন অসামান্য সাহসী, গুণী ও মেধাবী অসিত দাস। আতিক সে সময় সর্বহারা পার্টির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও সিরাজ সিকদারের প্রতি ছিলেন খুবই শ্রদ্ধাশীল। পরদিন সন্ধ্যার পর তিনি আমাকে জানান, কমরেড সিরাজ আর নেই। আটক অবস্থায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে নিষ্ঠুরভাবে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমাদের সময়ের নায়ককে।
সর্বহারা পার্টির শীর্ষ নেতা কমরেড সিরাজ সিকদার চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হন চুয়াত্তরের ৩১ ডিসেম্বর অথবা পঁচাত্তরের ১ জানুয়ারি। সরকারি ভাষ্যে বলা হয়, ২ জানুয়ারি সাভারে পুলিশ ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে গুলি করা হয়। সে গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। সিরাজ সিকদারের মৃত্যু সম্পর্কে পুলিশ তথা তৎকালীন মুজিব সরকারের পক্ষ থেকে যে বয়ান দেওয়া হয়, তা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। বামপন্থি এই নেতা সম্পর্কে যারা জানেন, তারা স্বীকার করবেন তিনি ছিলেন দারুণ সাহসী। একই সঙ্গে অসামান্য কৌশলী, হার না মানা এক মানুষ। সাভার ছিল সর্বহারা পার্টির ঘাঁটি এলাকা। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে ছিল সিরাজ সিকদারের ঘনিষ্ঠতা। সে সূত্রে সাভারে তাঁর আনাগোনা ছিল। সেখানে পুলিশের নাকের ডগায় ঘোরাফেরাও করেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে গণস্বাস্থ্যে আমার সংক্ষিপ্ত চাকরিজীবনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছ থেকে জেনেছি, সিরাজ সিকদার সাভার থানায়ও গিয়েছেন ছদ্মবেশে। এহেন সিরাজ সিকদার পুলিশ ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো দুঃসাহস পোষণ করতেই পারেন। তবে গেরিলাযুদ্ধে পারদর্শী সর্বহারা পার্টির নেতা অযথা মৃত্যুর ঝুঁকি নেবেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
সিরাজ সিকদার রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন, এমন গুঞ্জন ছিল সে সময়ে। সাংবাদিকতার জীবনে রক্ষীবাহিনীর দুজন উপপ্রধানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ হয়েছে। যাঁদের একজন লে. কর্নেল আনোয়ার উল আলম, অন্যজন সারোয়ার হোসেন মোল্লা। তাঁরা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, সিরাজ সিকদার হত্যায় কোনোভাবেই জড়িত নয় রক্ষীবাহিনী।
সর্বহারা পার্টির শীর্ষ নেতাকে পুলিশ না রক্ষীবাহিনী হত্যা করেছে, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও নয়। বন্দি অবস্থায় তিনি হত্যাকাণ্ডের সম্মুখীন হন। সিরাজ সিকদার হত্যাকাণ্ড তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো কল্যাণ ডেকে আনেনি। এ হত্যাকাণ্ড সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। সিরাজ সিকদার হত্যার ২৩ দিন পর পঁচাত্তরের ২৫ জানুয়ারি সংসদে চতুর্থ সংশোধনী আনা হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে একদলীয় শাসনপদ্ধতি বাকশাল প্রতিষ্ঠার এই বিল সংসদে উত্থাপনের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে পাস করা হয়। বিতর্কিত এ সংশোধনী পাসের এক মাসের মধ্যে পঁচাত্তরের ২৪ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় দেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল বাকশাল। আওয়ামী লীগসহ অন্য সব রাজনৈতিক দল অবলুপ্ত হয়।
দুই.
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হননি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এ ব্যাপারে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকেও সর্বাত্মক সহায়তা পান। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর শুধু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রই নয়, বাম রাজনীতিকদের আশ্রয়স্থল হিসেবেও বিবেচিত হতো। সিরাজ সিকদারের প্রতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দুর্বলতা ছিল। তাঁর রাজনীতির সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও সমীহের চোখে দেখতেন। ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করতেন বিপ্লবের জন্য সিরাজ সিকদারের মতো নেতৃত্ব দরকার। সর্বহারা পার্টির অনেক নেতা-কর্মী আশ্রয় পেয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। জাসদ ও অন্য বাম দলের নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রেও যা একটি সত্যি।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছ থেকে শোনা, সিরাজ সিকদার তাঁকে সর্বহারা পার্টিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। বলেন, যে দলে কোনো বিষয়ে ভিন্নমত হলেই প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়, সে দলে তিনি যোগ দেবেন কোন ভরসায়। সিরাজ সিকদার জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। তাঁর দেশপ্রেম ও আদর্শবোধ সম্পর্কেও ইতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আপত্তি খণ্ডনে কোনো যুক্তিই তিনি তুলে ধরেননি। যা ছিল তাঁর চরিত্রের সঙ্গে বেমানান।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, কবি হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা হয় ভিত্তিহীন অজুহাতে। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের প্রতিভাবান কবিদের একজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদেও কর্মরত ছিলেন। সর্বহারা পার্টি গঠনে যাঁদের ভূমিকা ছিল হুমায়ুন কবির তাঁদেরই একজন। লেখক সংগ্রাম শিবির প্রতিষ্ঠায়ও ছিল তাঁর উদ্যোগী ভূমিকা। যে সংগঠনটি পরে বাংলাদেশ লেখক শিবির হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বাহাত্তরের ৬ জুন কবি হুমায়ুন কবিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সেলিম শাহনেওয়াজ ফজলু ও সুলতান চক্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। ৬ জুন রাত ৯টায় ঢাকার ইন্দিরা রোডের বাড়ি থেকে তাঁকে ডেকে এনে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণকারী গেরিলাদের পরবর্তী সময়ে অভিনন্দন জানিয়েছে সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি। হুমায়ুন কবিরের বোনকে বিয়ে করেছিলেন সেলিম শাহনেওয়াজ ফজলু। এই আত্মীয়তার সম্পর্ক ছাড়াও হুমায়ুনের ব্যাপারে পার্টিতে অভিযোগ ওঠে তাঁর ভাই ফিরোজ কবিরের বহিষ্কারকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। ফিরোজ কবিরকে ইতঃপূর্বে একজন ‘কমরেড’ হত্যার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। হুমায়ুন কবির হত্যার কারণ হিসেবে পার্টির বক্তব্যে বলা হয়, ‘সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করার পুরোপুরি বুর্জোয়া দৃষ্টিকোণ সম্পন্ন হওয়ায় স্বভাবতই হুমায়ুন কবিরের মধ্যে ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য ছিল’। হুমায়ুন কবির হত্যাকে মহৎ ও বিপ্লবী কাজ বলে সর্বহারা পার্টি জাহির করলেও পরে তারা মূল্যায়ন করে ‘খতম করাটা ভুল হয়েছে’। এ মূল্যায়নের পেছনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সমালোচনা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।
সিরাজ সিকদার ছিলেন আমাদের সময়কার নায়ক। পূর্ব বাংলা বা আজকের বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রবক্তা ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন চীনা নেতা মাও সে তুংয়ের চিন্তাধারার প্রতি অনুরক্ত। কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে পিকিংয়ের দিকে মুখ ফিরিয়ে থাকা মোসাহেব ছিলেন না। হুমায়ুন কবির হত্যা সর্বহারা পার্টির ঐক্যে ফাটল ধরায়। অন্তঃকোন্দলের মুখে পড়ে পার্টি। সিরাজ সিকদারকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে দলের মধ্যে থাকা বিভীষণদের ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।
তিন.
বাংলাদেশের বাম রাজনীতি ছিল একসময় মেধাবীদের ঠিকানা। এটি ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ট্র্যাডিশনাল বাম দলগুলো তো বটেই, স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগের জঠর থেকে জন্ম নেওয়া জাসদের ক্ষেত্রেও সত্য। জাসদ প্রতিষ্ঠার পর যাঁরা এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, নিখিল রঞ্জন সাহা নামটি তাঁদের মনে থাকার কথা। যিনি ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। বুয়েটের মেকানিক্যাল বিভাগের লেকচারার। ১৯৭৪ সাল। সারা দেশে জাসদ বিপ্লবমুখী এক অগ্নিশিখার নাম। ওই বছরের ২৪ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বোমা তৈরির সময় একগুচ্ছ বোমা বিস্ফোরিত হয়। বোমাগুলো তৈরি হচ্ছিল ২৬ নভেম্বরের হরতাল সামনে রেখে। বিশেষ কায়দায় তৈরি এ বোমা জাসদ মহলে ‘নিখিল বোমা’ নামে আলোচিত হতো। যিনি শুধু বুয়েটের শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন জাসদের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। স্বপ্ন দেখতেন বিপ্লবের। যে বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর মতো খেটে খাওয়া পরিবারের সদস্যরা সমাজে মর্যাদা পাবে।
১৯৭৪ সালের ২৬ নভেম্বরের হরতালকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা আঁটে জাসদ। হরতালের আগের রাতে ও সকালে আতঙ্ক ছড়াতে প্রচুর বোমা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের লেকচারার ও জাসদ নেতা কর্নেল তাহেরের ছোট ভাই আনোয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমন দায়িত্ব তিনি আগেও পালন করেছেন। এজন্য ডাকেন বুয়েটের শিক্ষক নিখিল রঞ্জন সাহাকে। নিখিল বোমা বানানোর দক্ষ কারিগর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বোমা বানানোর পদ্ধতিও ছিল সোজাসাপটা। নিখিল তাঁর দুই সহযোগী কাইয়ুম আর নয়নকে নিয়ে বোমা বানাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাঁদের কারও ভুলে বিস্ফোরিত হয় একটি বোমা। যার আঘাতে তৈরি হয়ে যাওয়া বোমাগুলোও বিস্ফোরিত হয়। হতভাগ্য কাইয়ুম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অল্পের জন্য বেঁচে যান নিখিল ও নয়ন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। নিখিল ছিলেন জাসদের গণবাহিনীর প্রভাবশালী নেতা। দলের অনেক কিছুই তিনি জানতেন। ফলে দলের সুরক্ষায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন জাসদ নেতা মইন উদ্দিন খান বাদল। বাদলের বাবা আহমদ উল্লাহ খান ছিলেন পুলিশের ডিএসপি। সে পরিচয় ও নিখিলের বন্ধু সেজে পরদিন হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান তিনি। কথা বলেন নিখিলের সঙ্গে। নিখিল জানান, পুলিশ তল্লাশি করে তাঁর ডায়েরি জব্দ করেছে। এ অবস্থায় বাদলসহ অন্য নেতাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকাই উচিত। নিখিল বলেন, তিনি পুলিশের কাছে কিছু ফাঁস করেননি। তবে পুলিশ তথ্য জানতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বাদল যেন এমন কথা শোনার অপেক্ষায় ছিলেন।
চুয়াত্তরের ২৫ নভেম্বর একটু সুস্থ হয়ে ওঠেন নিখিল রঞ্জন সাহা। আর সেদিনই তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়। উদ্দেশ্যটা ছিল মহৎ। নিখিলের কাছ থেকে জাসদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেন পুলিশের কাছে চলে না যায়। এভাবেই নিখিলের হতদরিদ্র খেতমজুর বাবা-মায়ের পরিবারের স্বপ্নেরও অপমৃত্যু হয়।
নিখিল রঞ্জন সাহা ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটনগর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। বোমা বিস্ফোরণে নিহত জাসদ কর্মী কাইয়ুম থাকতেন পলাশীর সরকারি কলোনিতে। খবর শুনে তাঁর মা যাত্রাবাড়ীতে লাশ দেখতে যান। লোকজনের জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর ক্ষতবিক্ষত ছেলেকে দেখেন। পুলিশের ভয়, স্বামীর সরকারি চাকরি ও সরকারি কোয়ার্টার নিয়ে ঝামেলার ভয়ে কাইয়ুমকে নিজের ছেলে পরিচয় দেওয়ার সাহসও পাননি। জাসদের পক্ষ থেকেও কেউ এগিয়ে আসেনি তাদের একজন কমরেডের লাশ গ্রহণ করতে। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে কাইয়ুমের লাশ বেওয়ারিশ পরিচয়ে দাফন করা হয়।
নিখিল কিংবা কাইয়ুম শুধু নয়, জাসদ তাদের কোনো নেতা-কর্মীর প্রতি কোনো দায় অনুভব করেছে কি না, জানা নেই। জাসদের অন্তঃকোন্দলে নিহত হয়েছেন কাজী আরেফের মতো জাতীয় নেতা। যিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার। মারাফত হত্যার পেছনেও ছিল অন্তঃকোন্দল। গুপ্তহত্যা আর আত্মঘাতী রাজনীতির কারণেই একসময়ের মহিরুহ হয়ে ওঠা দল সর্বহারা পার্টির কোনো অস্তিত্বই নেই। আর জাসদ এখন এক লাশের নাম।
লেখক : সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
ইমেইল : [email protected]