ওয়াশিংটন বিশ্ববন্যপ্রাণী তহবিলের তথ্যে জানা যায় পরিযায়ী পাখিরা মানবতাকে বলে দিয়েছে পৃথিবীর আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে- হতভাগ্য ক্যানরি পাখির মতো পরিযায়ী পাখিরাও বিশ্বে পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এই রিপোর্টের লেখক এডাম মারখাম বলেছেন, বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে অনেক পাখির প্রজাতির দেশান্তরী চক্রকে মারাত্মকভাবে ধ্বংস করে দেবে। এ ধ্বংস থেকে রক্ষার উদ্দেশ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য ‘মিন হাউস গ্যাস’-এর নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারসমূহের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে দেখা যাচ্ছে জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যে যে প্রতিক্রিয়া পড়েছে সে বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্য দিয়েই এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো এবং কয়েকটি তেল উৎপাদনকারী দেশ জোর দিয়ে বলছে যে তেল ও গ্যাস জ্বালানির নির্গমনের কারণেই বিশ্বের ভূপৃষ্ঠে তাপমাত্রা সাড়ে তিন ডিগ্রি ফারেনহাইট বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে দেশান্তরী পাখির বিভিন্ন প্রজাতি বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আসাযাওয়ার দুস্তর পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবিলা করতে হয় এদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশান্তরী পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণেও বর্তমানে দেশান্তরী বা পরিযায়ী পাখিদের আবাসস্থল ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। বন উজাড়, পানিদূষণ ও উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নের কারণেও সব পাখির আবাসস্থল মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যেই পাখিদের দেশান্তরী হওয়ার ধরন পরিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানী ও পাখি পর্যবেক্ষকরা পর্যবেক্ষণ করছেন। সম্প্রতি প্রজাপতির ওপর এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে প্রজাপতি দেশান্তরী হওয়ার প্রবণতাও গত শতকের তুলনায় দেড় শ কিলোমিটার উত্তরে চলে গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেই তা হয়েছে।

মার্কিন প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. জেফ পাইস বলেছেন, পাখিরা এদিকসেদিক চলে যেতে পারলেও তাদের আবাসস্থলের পক্ষে তা সম্ভব নয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি উপকূলীয় এলাকায় বন্যা মৌসুমের সময় পরিবর্তন কোনো কোনো এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পাখিরা আবহাওয়াসম্পর্কিত হুমকির সম্মুখীন। পরিবেশ ব্যবস্থায় উপকূলীয় জলাশয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আবহাওয়া পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপকূলীয় এলাকা দেশান্তরী পাখির সমৃদ্ধ বিচরণক্ষেত্র। এখানে তাদের খাবার পাওয়া যায় অফুরন্ত। বিশাল পথ অতিক্রম করে শরীরে তাদের যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয় উপকূলীয় এলাকায় বিচরণ ক্ষেত্রে এমন সব পাখির খাদ্য পাওয়া যায় যাতে সে ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করতে পারে। গত শতাব্দীতে সমুদ্রস্তর ১০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায় এবং এই বৃদ্ধির হার আগামী ১০০ বছরে ২ থেকে ৫ গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের জোয়ার পানির ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারে। স্পর্শকাতর উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত গাছপালা ও প্রাণিজগতের পরিবর্তনের ফলে পাখিরা তাদের খাদ্যের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসন্তকালের দেশান্তরী পাখির সময় পরিবর্তনের বিষয়ে বলা যায়। এই পাখিরা মিশিগান এলাকায় আগের সময়ের চেয়ে আগে এসে পৌঁছায়। এ হার প্রতি বছরে এক দিন করে এগিয়ে আসছে। বিজ্ঞানী ও পাখি বিশেজ্ঞরা জানান, অন্যত্রও এ ধরনের আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভূমিতে উষ্ণতা দেশান্তরী পাখির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। উত্তর আমেরিকা, ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকা এ ধরনের আবহাওয়ার উদাহরণ। যে প্রধান প্রধান ১৪টি জলাশয় দেশান্তরী পাখির বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে সেগুলো আজ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারনে হুমকির সম্মুখীন। যেসব এলাকার পাখি ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলাশয়গুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলওয়ারন উপসাগর, সুরিনামের কোপেনাম নদী এবং বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকাসহ সমুদ্র উপকূল।
লেখক : প্রাবন্ধিক