ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে ৩০০ আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন। গড়ে প্রতি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাড়ে ৬ জন প্রার্থী। এককভাবে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ২৮৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ২৫৯ আসনে ভোট লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। তৃতীয় স্থানে জামায়াতে ইসলাম। তারা লড়ছে ২৪৩ আসনে। জনপ্রিয়তায় বিএনপি দৃশ্যত এগিয়ে থাকলেও ৭৯ আসনে দলটির ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য দলগুলোর মধ্যে জামায়াত জোটের এনসিপি ৩০ ও খেলাফত মজলিস ২৯টি আসনে লড়ছে। আগামী নির্বাচনে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না। ভোট কেন্দ্রে তাদের পরিচিত নেতা-কর্মীদের হয়তো দেখা যাবে না। তবে সমর্থকদের একাংশের যে উপস্থিতি থাকবে তা নিশ্চিত। ভোটের ভাগ্য নির্ধারণে তারা ভূমিকা রাখতে পারেন, এমন ধারণা অনেকের। স্বতন্ত্র সদস্যদের অনেকেরই চোখ সেদিকে। গতকাল প্রতীক বরাদ্দের পর সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের প্রচার শুরু হয়েছে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র, নিদেনপক্ষে রাজনৈতিক সরকার ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত তিনটি নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। যা নির্বাচনের একটি সীমাবদ্ধতা। তারপরও দেশবাসী চায় দেশে নির্বাচিত সরকারের শাসন আসুক। জনগণের প্রতি যাদের দায়দায়িত্ব থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকার কোনো পক্ষ নয়। সেই অর্থে সুষ্ঠুভাবে ভোট অনুষ্ঠানে সরকার আন্তরিক ভূমিকা পালন করবে-এমনটিই প্রত্যাশিত। সংসদ নির্বাচনের ভোট নিয়ে সংশয় না থাকলেও গণভোটে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের স্বচ্ছতা প্রমাণে নির্বাচন কমিশন ও সরকার এ-সংক্রান্ত সব অভিযোগ খতিয়ে দেখবে বলে আমরা আশা করি। নির্বাচন হলো জনগণের উৎসব। আমরা চাই উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ দেশবাসীর সামনে এসেছে তা সফল হোক।