বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত ২৭০ কিলোমিটার। মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আমি এই দীর্ঘ সীমান্ত ঘেঁষে অন্তত ৩০০ স্থলমাইন বসিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বলা হয় বিতাড়িত রোহিঙ্গারা যেন ফের সেখানে ফিরে গিয়ে আস্তানা গাড়তে না পারে, সেজন্যই পথে মাইন পুঁতে রেখেছে আরাকান আর্মি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অর্ধশতাধিক স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার করে আপাত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এটাই স্থায়ী সমাধান নয়। গত তিন বছরে এভাবে পেতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে অন্তত ২৭ ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রায় সবারই অঙ্গহানি ঘটেছে। এর মধ্যে বিজিবি সদস্যও আছেন। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে নানা গণমাধ্যমে জানা যায়। একদিকে যেমন জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে, তার সঙ্গে নতুনভাবে সংঘাতে জড়িয়েছে রোহিঙ্গা নেতৃত্বাধীন অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাতে নিরাপত্তাশঙ্কায় পড়েছে বাংলাদেশ। সামরিক বিশেষজ্ঞের মতে, আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে সংঘাত চলছে, তার সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীও জড়িত। ওই সংঘাতে একপক্ষ যখন টিকতে পারবে না, তারা বাংলাদেশে আশ্রয় খুঁজতে পারে। সেটা রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভারে নাজেহাল বাংলাদেশের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগে গাম্বিয়ার করা ঐতিহাসিক মামলার শুনানি নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুরু হয়েছে। শরণার্থীরা জাতিগত নিধন, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। এই প্রথম রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো ২০১৭ সালের এক চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানি। চরম দুঃসময়ে, নিতান্ত মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে চায় যে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক। এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাক। দীর্ঘদিন ধরে এর সুরাহা হচ্ছে না। বরং মাঝেমধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। প্রাণহানি ঘটছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপে এর লাগসই স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত।