জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এটা বর্তমান বেতনকাঠামোর দ্বিগুণেরও বেশি। সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এজন্য বছরে সরকারের বাড়তি দরকার হবে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কমিটি গঠন করবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করতে। বুধবার বেতন কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা মস্ত বড় কাজ হলো। মানুষ বহুদিন এর অপেক্ষা করছে’। ২০১৪ সালে অষ্টম বেতন কমিশন প্রতিবেদনের আলোকে পরের বছর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বর্তমান বেতনকাঠামো চলছে। প্রায় এক যুগ পর এবারের প্রস্তাব অনুযায়ী দ্রুত নতুন বেতন কমিশন বাস্তবায়ন আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য ব্যয় হয় ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হলে তা সরকারের জন্য একটা গুরুভার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে সন্দেহ নেই। কিন্তু তা পূরণও সময়ের দাবি। কারণ গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বহুগুণ বেড়েছে। কঠিনতর হয়ে পড়েছে চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রা। তারই একটা সমাধান ফর্মুলা সুপারিশ করেছে কমিশন। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতা ৫০ শতাংশ এবং ৭৫ বছরের বেশি বয়সি পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা করাসহ আরও কিছু কল্যাণকর প্রস্তাবও করা হয়েছে। স্বভাবতই অংশীজনরা সাধুবাদ জানাবেন। তবে সংগত প্রশ্নও উঠতেই পারে যে, সরকার এই বর্ধিত ব্যয় কীভাবে মেটাবে? গলা শুকানোর কোনো কারণ নেই। এক বাক্যে এর উত্তর হচ্ছে ‘আয় বাড়িয়ে’। প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারী যদি সততা-নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, আয়ের খাতগুলোতে চুরি-জোচ্চুরির সব ফাঁকফোকর বন্ধ হয়- ১ লাখ কোটি টাকা রাষ্ট্রের জন্য খুব মোটা টাকা নয়। রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, শুধু তার প্রদান দায়িত্বশীলভাবে এবং আদায়টা কড়ায়গন্ডায় রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হওয়া প্রয়োজন। তাহলেই প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো শতভাগ বাস্তবায়নেও সংকট হওয়ার কারণ নেই। উপযুক্ত প্রশাসনিক নীতি-কাঠামো নিশ্চিত করবে। আশা করব, পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতেও এর সুবাতাস বইবে। কারণ ব্যয় কমিয়ে রেখে কষ্টের জীবনযাপন নেতিবাচক। ইতিবাচক হচ্ছে- আয় বাড়িয়ে, বর্ধিত ব্যয় মিটিয়ে জীবনমান উন্নয়ন। সচ্ছল সৎ জীবনের উদ্যাপন। ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র- সব ক্ষেত্রেই এ দর্শন সমানভাবে অনুসৃত হওয়া উচিত।