ভোটের বাকি ১৮ দিন। উৎসবমুখর পরিবেশ সারা দেশে। নির্বাচন কমিশনে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। ইসি ৮ লাখ ভোট কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা। পোস্টারবিহীন ভোটে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারা মাঠে। ভোট প্রদানের আহ্বান পৌঁছাচ্ছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ভোটারের কাছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবরই বলে এসেছেন, এবারের ভোট হবে ইতিহাসসেরা। ঈদের দিনের মতো উৎসবমুখর। আগামী দিনে দেশে ভোটের মডেল। সম্প্রতি তিনি আরও বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে দুটি ভোট হবে। একটিতে জনগণ পাঁচ বছরের জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। অন্যটি অর্থাৎ গণভোটে ঠিক করবে- জুলাই বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার সমর্থন আছে কি না? যে বাংলাদেশে চিরকাল গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, সুবিচার, সুশাসন, সাম্য-সম্প্রীতি ও ন্যায্যতার নিশ্চয়তা বিধানের বাধ্যতা থাকবে। যে প্রশ্নে একমত হয়েছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। কথা খুব পরিষ্কার। মানুষ কী চায়, সে তার নিজস্ব বিবেচনা। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, জাতির প্রত্যাশিত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। প্রচারের প্রথম দিন সিলেটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘খাল খনন’ কর্মসূচি আবার শুরুর ঘোষণা দেন। বলেন, বৈরী পরিবেশেও কেবল বিএনপিই দেশের মানুষের পাশে থাকে। বিদেশে পালায় না। বিএনপির কাছে দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়। সবার আগে বাংলাদেশ। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকায় তাঁদের নির্বাচনি জনসভায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। বলেন, যারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি থেকে নিজেদের লোকদের বিরত রাখতে পারবে, তারাই আগামীর বাংলাদেশ উপহার দেবে। বলেন, দেশে আর ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। মায়েদের ইজ্জত নিয়ে কখনো টান দেবেন না। তাহলে আগুন জ্বলবে। এনসিপি ঢাবির দোয়েল চত্বরে তিন নেতার মাজার এবং মসজিদের পাশে বীর জুলাই যোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছে। এ সময় দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন আমাদের আধিপত্যবাদবিরোধী যাত্রা, আজাদির অভিযাত্রা। সব মিলিয়ে জমজমাট ভোটের আবহ দেশজুড়ে। দেশবাসী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মুখিয়ে আছে দীর্ঘ বঞ্চনার পর ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে প্রকৃত গণতন্ত্রে উত্তরণের আকাঙ্ক্ষায়। কিন্তু পতিত শক্তি এবং দেশেবিদেশে তাদের দোসররা ঘুমিয়ে আছে ভাবলে ভুল হবে। নির্বাচন বিঘ্নিত, প্রশ্নবিদ্ধ, এমনকি বানচালে তারা যে কোনো বিধ্বংসী নাশকতার মরণকামড় দিতেই পারে। কঠোর প্রতিরোধে এমন যে কোনো অপচেষ্টা নস্যাতে অটুট ঐক্যে সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। জাতি কামনা করে ইসির নির্বাচনি কর্মযজ্ঞ শতভাগ সাফল্যের তকমা নিয়ে সম্পন্ন হোক।