বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখটি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এবং একটি জাতির নতুন করে জেগে ওঠার মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে একটি জাতীয় গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন গণতান্ত্রিক দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ দেড় বছর ধরে চলেছে, তার চূড়ান্ত ফসল ঘরে তোলার সময় এখন। এই সন্ধিক্ষণে দেশ ও জাতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা। আর এই কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে জনগণের শেষ ভরসা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানটি অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছে, সেটি হলো আমাদের গর্বিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি সংকটকালেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানপরবর্তী প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই উত্তাল সময়ে সেনাবাহিনী যে অভাবনীয় ধৈর্য এবং দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে, তা বিশ্বের সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগ না করার সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ সেনাবাহিনীকে জনগণের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে দিয়েছে। সেই আস্থার ওপর দাঁড়িয়েই আজ ২০২৬ সালের নির্বাচনের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বর্তমানে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চষে বেড়াচ্ছেন। পটুয়াখালী, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ও সিলেট সফরের মাধ্যমে তিনি কেবল মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতিই তদারকি করছেন না, বরং বাহিনীর প্রতিটি স্তরে এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। তাঁর প্রতিটি বক্তৃতায় একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল ‘নিরপেক্ষতা’। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব সেনাসদস্যদের স্পর্শ করতে পারবে না। সেনাপ্রধানের এই দৃঢ় অবস্থান বাহিনীর প্রতিটি স্তরে এক নতুন পেশাদারির সঞ্চার করেছে। এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনীর দর্শন হলো ভোটারদের মনে অভয় দান করা, যাতে তারা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচনি ইতিহাসে এবারই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি একটি নি-িদ্র নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এবং বিমানবাহিনী দুর্গম পার্বত্য এলাকায় নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ সর্বমোট প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্যের এই যে বিশাল সমন্বয়, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেনাবাহিনী। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার নীতি বা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ অনুযায়ী কাজ করলেও এবারের সেনাবাহিনীর ভূমিকা আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।
বিশেষ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা কর্মকর্তাদের দেওয়া বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা মাঠপর্যায়ের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। আগে কোনো অভিযানে গিয়ে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার পর আইনি প্রক্রিয়ায় সিভিল ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, যা অনেক সময় অভিযানের গতি কমিয়ে দিত এবং অপরাধীকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিত। কিন্তু এখন সেনা কর্মকর্তারা নিজেরাই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারছেন, সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে পারছেন এবং ধারা ১০০ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। এই ক্ষমতার সুফল ইতোমধ্যে হাতেনাতে পাওয়া গেছে। গত কয়েক মাসের যৌথ অভিযানে দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার অবৈধ অস্ত্র এবং প্রায় ৩ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু জানুয়ারির এক সপ্তাহেই ৫০০-এর বেশি তালিকাভুক্ত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা সহিংসতা কমানোর ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। এটি সাধারণ ভোটারদের মনে এই বিশ্বাস দিচ্ছে যে কোনো পেশিশক্তি বা অস্ত্রের ঝনঝনানি এবারের নির্বাচনকে কলুষিত করতে পারবে না। এই প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখাগুলোর সক্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো, যারা নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য নাশকতার ছকগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিচ্ছে।
গত ১৮ মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেনাবাহিনী কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বরং মানবিক সেবায়ও নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের প্রলয়ংকরী বন্যার সময় ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান ছিল এক নজিরবিহীন উপাখ্যান। হেলিকপ্টার ও স্পিডবোট ব্যবহার করে হাজার হাজার পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করা এবং পরবর্তী সময়ে সরকারি খরচের চেয়ে অর্ধেকেরও কম ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩০০টি টেকসই বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া-এসবই বাহিনীর সততা ও আর্থিক দায়বদ্ধতার প্রমাণ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তারা সরকারনির্ধারিত বাজেটের অর্ধেকেরও কম খরচে এই কাজ সম্পন্ন করে দেশের সম্পদ সাশ্রয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুধু তা-ই নয়, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আহত সাধারণ নাগরিকদের জন্য সিএমএইচ বা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে তারা আক্ষরিক অর্থেই জনগণের সেনাবাহিনী। সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতা দেশের অর্থনীতিকে নিশ্চিত ধসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি জনসেবা ও আস্থার ওপর ভিত্তি করেই আজ ভোটাররা বিশ্বাস করছেন, পাহারায় সেনাবাহিনী থাকলে তাদের ভোট নিরাপদ। তবে এই যাত্রাপথ যে একেবারেই নিষ্কণ্টক, তা বলা যাবে না। ২০২৬-এর এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সামনে বেশ কিছু জটিল ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং বিভাজনের ফলে জনমনে যে সংশয় থাকে, তা দূর করে নিজেদের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা। সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ করা এবং কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাবে না পড়ে এই নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দ্বিতীয়ত সারা দেশে এখনো ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্র ও পেশিশক্তির ব্যবহার সম্পূর্ণ নির্মূল করা। তৃতীয়ত আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় উপদ্রব ডিজিটাল অপপ্রচার ও সাইবার প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করা। বর্তমান যুগে ভুয়া তথ্য বা গুজব মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেনাবাহিনীর নামে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি বা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। বাহিনীর মনোবল অটুট রাখা এবং জনগণের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রাখাই হবে এই সাইবার যুদ্ধের প্রধান কৌশল। প্রতিটি সেনানিবাসে এবং মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করা ইউনিটগুলোতে এই মর্মে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কোনো প্রকার উসকানিতে সেনাসদস্যরা বিভ্রান্ত না হন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট আবার কিছুটা ভিন্ন এবং স্পর্শকাতর। সেখানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রোধ করে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়া স্থানীয়দের উদ্ধার এবং দুর্গম এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সফল অপারেশন পরিচালনা করছে। একইভাবে সীমান্ত এলাকা দিয়ে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা নাশকতা রোধে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪ দিন আগে থেকে ভোট পরবর্তী ৭ দিন পর্যন্ত মোট ১২ দিনের এই বিশেষ মিশনে সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকবে। এই সময়কালের মধ্যে তারা মূলত ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে কাজ করবে। তবে প্রতিটি বড় স্টেশনে কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি এবং বিশেষায়িত প্যারা-কমান্ডোদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বড় নাশকতা বা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা আকাশপথ ও স্থলপথে দ্রুততম সময়ে পৌঁছাতে সক্ষম। এই কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনের দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের প্রতিহিংসামূলক সহিংসতা যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেনাবাহিনীকে একটি ভয়হীন, অংশগ্রহণমূলক এবং উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি সেতুর মতো কাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। মানুষ চায় এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য কাউকে জীবন দিতে হবে না। সেনাবাহিনী তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সুষম প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা-এই দুইয়ের সমন্বয়ে সেনাবাহিনী এক নতুন নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী কেবল অপরাধীদের জন্য আতঙ্কের নাম নয়, বরং সাধারণ ভোটারের কাছে তারা আজ সাহসের এক পরম উৎস। আধুনিক বাংলাদেশের পুনর্গঠনে এই বাহিনীর ভূমিকা এখন আর কেবল সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক স্তম্ভগুলোকে শক্তিশালী করার কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে বর্তমানে সেনাবাহিনীর যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলগুলো টহল দিচ্ছে, তারা মূলত রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করছে। তারা কেবল লাঠি বা অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে নেই, বরং প্রতিটি ভোটারের মনে এই আত্মবিশ্বাস বুনে দিচ্ছে যে তাদের নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শক্তি কারও নেই।
২০২৬-এর এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, এটি একটি নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রারম্ভিক বিন্দু। এই অভিযাত্রায় সেনাবাহিনী পথপ্রদর্শক এবং পাহারাদার উভয় ভূমিকাতেই অবতীর্ণ। তাদের প্রতিটি টহল এবং প্রতিটি মানবিক উদ্যোগ আজ একটি নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশের ভিত্তি রচনা করছে। মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর এই নিবিড় সমন্বয় ভোটারদের মনে এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে রাষ্ট্র তার প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রমাণ করে যে তারা কোনো কিছুকেই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে রাজি নয়। পেশাদারির এই অনন্য ধারা বজায় রেখে সেনাবাহিনী আবার প্রমাণ করবে যে তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি গণতন্ত্রের পাহারাদার হিসেবেও বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাহিনী। নির্বাচনের সরঞ্জাম পাহারা দেওয়া এবং সেগুলো নিরাপদে জেলা নির্বাচন অফিসে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিটি স্তরে সেনাবাহিনীর নি-িদ্র নিরাপত্তাবলয় আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। এই সমন্বিত প্রয়াস মূলত একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের এই সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের নতুন দিনের আকাক্সক্ষার প্রতীক। এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল একটি সামরিক শক্তি নয়, বরং এটি এক নৈতিক শক্তির আধার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা এবং নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের ওপর ভর করেই রচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন বাংলাদেশের ইতিহাস। ১২ ফেব্রুয়ারির সকালে যখন সাধারণ ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াবেন, তখন পাশে থাকা জলপাই রঙের পোশাকের মানুষটিকে দেখে তারা যেন গভীর প্রশান্তি ও নিরাপত্তার অনুভব করতে পারেন। সেনাবাহিনীর এই আত্মত্যাগ, শ্রম এবং নিরলস প্রহরার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে তার কাক্সিক্ষত সমৃদ্ধির গন্ত্যব্যে। একটি সার্থক, শান্তিপূর্ণ ও জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন উপহার দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মর্যাদা ও পেশাদারির প্রমাণ দেবে-এটাই আজ সমগ্র জাতির একান্ত আকাক্সক্ষা। এই গণতান্ত্রিক মহাযজ্ঞের প্রতিটি ধাপে সেনাবাহিনী থাকুক জাতির অতন্দ্র প্রহরী হয়ে, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাক তার গৌরবের আগামীর দিকে। দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী যে সর্বদা অটল এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই নির্বাচনই হবে তার ঐতিহাসিক দলিল। বাংলাদেশের মানচিত্রজুড়ে আজ যে নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কারিগর আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। তাদের এই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অনাগত প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র রক্ষার এক অনন্য পাঠ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই মহালগ্নে পুরো জাতি আজ একতাবদ্ধ হয়ে সেনাবাহিনীর ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার ফলে একটি শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম হবে। আমাদের এই বীরত্বগাথা আগামীর এক শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর।
লেখক : সেনা কর্মকর্তা