ছাত্রদলকে বলা হয় বিএনপির ভ্যানগার্ড। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এই ছাত্রসংগঠন। সংগঠনটির বিকাশ ঘটে বেগম খালেদা জিয়ার ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বে। শুরুতে ভাঙাগড়ার পর ছাত্রদলকে জাতীয় রাজনীতির এক নিয়ামক স্থানে নিয়ে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ টি এম খালেদ বীরপ্রতীক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক বাবলুসহ অসংখ্য ছাত্রনেতা প্রাণ হারান এই সংগঠনটির নেতৃত্ব দিতে গিয়ে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ড. আ ক ম গোলাম হোসেনের রহস্যজনক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, ২০১২ সালে অপহৃত হয়ে আজও নিখোঁজ আরেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলী, জেলখানায় মারা যান সাবেক সভাপতি ও এমপি নাসির উদ্দীন আহাম্মেদ পিন্টু, আরেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু মারা যান স্বৈরসরকারের নির্যাতন শেষে। স্বৈরশাসকদের বিপক্ষে এই সংগঠনটির ভূমিকার কথা বলে শেষ করা যাবে না। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নাজির উদ্দিন জেহাদ রাজধানীতে গুলি খেয়ে এরশাদের ক্ষমতার তক্তে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। শহীদ জেহাদের উত্তরসূরি কক্সবাজারের ওয়াসিম আকরাম বীর চট্টলায় বুকের রক্ত ঢেলে চব্বিশের আন্দোলন তুঙ্গে নিয়ে যান। সেই ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের অনেকেই এবার নির্বাচনের মাঠে।
১৯৯১-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের তৎকালীন আহ্বায়ক ও ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমান, ছাত্রনেতা খন্দকার বাবুল চৌধুরী ও গৌতম মিত্র; সাবেক ছাত্রদল নেতা আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন আমান উল্লাহ আমান। ১৯৯৬ সালের দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ, শামসুজ্জামান দুদু, এহছানুল হক মিলন, আমান উল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, এম ইলিয়াস আলী, নাজিম উদ্দিন আলম, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শাহজাহান হাওলাদার সুজন, হারুনুর রশীদ হারুন, নাদিম মোস্তফা, জুলফিকার মুর্তাজা তুলাসহ অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন। ২০০১-এর নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ, এহছানুল হক মিলন, আমান উল্লাহ, ফজলুল হক মিলন, ইলিয়াস আলী, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, নাসির উদ্দীন আহাম্মেদ পিন্টু, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাদিম মোস্তফাসহ অনেকেই জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যাসন্ন। ছাত্রদল থেকে এবার পঞ্চাশের অধিক সাবেক ছাত্রনেতা অংশ নিয়ে এখন ভোটের মাঠে। এদের মধ্যে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ উল্লেখযোগ্য নেতাদের নিয়েই এ প্রতিবেদন। তাঁদের মধ্যে আছেন কক্সবাজার-১ সাবেক এমপি ও মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চাঁদপুর-১ সাবেক এমপি ও মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, ঢাকা-২ চারবারের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী, ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান, নোয়াখালী-১ সাবেক এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নরসিংদী-১ সাবেক এমপি ও ডাকসুর জিএস খায়রুল কবির খোকন, গাজীপুর-৫ সাবেক এমপি ফজলুল হক মিলন, লক্ষ্মীপুর-৩ সাবেক এমপি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, লক্ষ্মীপুর-২ সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, খুলনা-২ সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পার্বত্য খাগড়াছড়ি সাবেক এমপি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাতক্ষীরা-১ সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সিলেট-৪ আরিফুল হক চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুন, নাটোর-২ সাবেক এমপি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মুন্সিগঞ্জ-৩ কামরুজ্জামান রতন, পটুয়াখালী-৪ এ বি এম মোশাররফ হোসেন, নোয়াখালী-৬ মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম-৯ আবু সুফিয়ান, খুলনা-৪ আজিজুল বারী হেলাল, টাঙ্গাইল-৫ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, লক্ষ্মীপুর-১ শাহাদাত হোসেন সেলিম, ঢাকা-১ খন্দকার আবু আশফাক, পঞ্চগড়-২ ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-২ তাহসীনা রুশদীর লুনা, নেত্রকোনা-৩ রফিকুল ইসলাম হিলালী, হবিগঞ্জ-৩ জি কে গউছ, রাজশাহী-৩ শফিকুল হক মিলন, মাদারীপুর-৩ আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, খুলনা-৩ রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীয়তপুর-৩ মিয়া নুর উদ্দিন অপু, ফেনী-১ রফিকুল আলম মজনু, ফরিদপুর-৪ শহীদুল ইসলাম বাবুল, গোপালগঞ্জ-৩ এস এম জিলানী, সিরাজগঞ্জ-৫ আমিরুল ইসলাম আলীম, বরিশাল-৪ রাজিব আহসান, ময়মনসিংহ-৭ মাহবুবুর রহমান লিটন, নেত্রকোনা-১ কায়সার কামাল, সুনামগঞ্জ-৪ নুরুল ইসলাম নুরুল, ঢাকা-৯ হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা-১৮ এস এম জাহাঙ্গীর, ভোলা-৪ নুরুল ইসলাম নয়ন, গোপালগঞ্জ-১ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, সিলেট-৬ এমরান আহমদ চৌধুরী, ঢাকা-৭ হামিদুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ ওবায়দুল হক নাসিরসহ অনেকে।
এর বাইরে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম দিকপাল ছাত্রনেতা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব প্রার্থী পাবনা-৪ আসনে। তিনি এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন প্রার্থী বরিশাল-১ আসনে। বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনও এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল প্রার্থী জামালপুর-৩ আসনে। তিনি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সম্পাদক।
লেখক : সাংবাদিক, বাংলাদেশ প্রতিদিন