জাতি আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। একাত্তরের দখলদার বাহিনীর সহযোগী গোষ্ঠীর অপরাজনীতির বিপক্ষে তারা ভোট দেবে। ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে উদারনৈতিক, গণতান্ত্রিক, সুশাসনের, আধুনিক শিল্পায়নসমৃদ্ধ রাষ্ট্র কায়েমের কান্ডারি, রাষ্ট্রনায়ক জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দক্ষ-উত্তরাধিকারী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারা দেশে গণমানুষের সঙ্গে গণসংযোগ করেছেন। তিনি ভোটার ও অন্য সব নাগরিকের কাছে ছুুটেছেন; ধর্মান্ধ ও একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তিনি তাদের গণতান্ত্রিক, উদারনৈতিক আদর্শের, দেশের ও গণমানুষের কল্যাণের পথে ফিরে আসার জন্য আবেদন-নিবেদন জানিয়েছেন। আমাদের সামনে আশার আলো জ্বালিয়েছেন আমাদের নেতা চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনি জোটের বিপক্ষে ১১-দলীয় ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি একমাত্র জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ‘ভালো দল’ হিসেবে সঙ্গী পেয়েছে। কেন যে তারা বিভ্রান্ত হয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে গেল এবং নিজেদের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ভূমিকাকে কালিমা লিপ্ত করল বোঝা মুশকিল। মজার ব্যাপার হলো, ধর্ম ব্যবসায়ী মূল-দলটি তাদের নির্বাচনি শরিকদের পক্ষের প্রার্থীদের জন্য প্রচারও চালাচ্ছে না- এ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর। এ জোটের মূল শক্তিটি দেশবাসী ভোটারদের কাছে নিজেদের ‘পরিচ্ছন্ন ইমেজ’ তুলে ধরার কোনো সুযোগই পাচ্ছে না। শতভাগ খাঁটি সত্য হচ্ছে- ধর্ম ব্যবসায়ী দলটির পরিচ্ছন্ন ইমেজ কোনোকালেই ছিল না, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম জনগোষ্ঠীর এন্তার অভিযোগ প্রচারিত হয়ে আসছে। আর একাত্তরে দখলদার বর্বর পাকসেনাদের বাঙালি নিধনযজ্ঞে, পাইকারি নারী-ধর্ষণে, গ্রাম-শহর-জনপদ ধ্বংসযজ্ঞে সরাসরি সহযোগিতার পর তাদের আসল ক্রেডিবিলিটি শূন্যের কোঠায়। এই ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটির জোর বা শক্তি হচ্ছে বিদেশি প্রভুদের কাছ থেকে পাওয়া বিশাল তহবিল-সেটা তাদের বিদেশি প্রভুরা তাদের দিয়েছে তাদের অপকৌশলের ভূরাজনৈতিক অপকর্মগুলোতে সমর্থনের জন্য। এই ধর্মান্ধ ও অপরাজনীতির হোতা গোষ্ঠীটি এই যে বিশাল বিশাল সমাবেশ করতে সক্ষম হয়েছে তার পেছনে রয়েছে বিদেশি প্রভুদের দেওয়া অর্থ। তারা তাদের সেই অফুরান অবৈধ টাকার শক্তিতে বিএনপি ও অন্য গণতান্ত্রিক রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে নানারকম মিথ্যা অভিযোগ তোলে।
এখন আসা যাক, ধর্মান্ধ ও ধর্ম ব্যবসায়ী কুচক্রী গোষ্ঠীটির আসল রাজনীতির সার-কথা নিয়ে। তারা রাজনীতি করছে নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, নারীর ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে। সেই দেউলিয়া রাজনীতির কারণে তারা দেশের অর্ধেক ভোটার যেখানে নারী, সেই নারীদের একজনকেও একটি আসনে মনোনয়ন দেয়নি। কারণ তারা নারীকে সম্মান করতেই জানে না এবং চায় না। মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে নিয়ে গিয়ে নারীকে ক্ষমতাহীন ‘তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকে’ পরিণত করতে চায়, নারীকে তারা ‘গৃহদাসী’ বানিয়ে তাদের দিয়ে ভোগ-বিলাসের মাত্রা বাড়াতে চায়। তারা এ দেশের ধর্মভীরু গণমানুষের একটা অংশকে বিভ্রান্ত করে, বিদেশি অর্থদাতা প্রভুদের টাকার জোরে ক্ষমতায় আসতে পারলে এ দেশে সব নারীকে গৃহবন্দি করে, স্থায়ীভাবে ‘গৃহদাসী’ প্রথা চালু করে দেবে; তারা এ দেশকে তালেবান-রাষ্ট্র, সারা-বিশ্বের ‘সবচেয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্র আফগানিস্তান’ বানাবে। নারীকে তারা ‘গৃহবন্দি, রান্নাঘরবন্দি’ করে ছাড়বে। অথচ তারাও নারী সমাজের ভোট চায়। আর আমাদের নারী সমাজের ধর্মভীরু একটি অংশ নিজেদের অসচেতনতার জন্য ‘পরকালের শাস্তির ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত, বিভ্রান্ত’ হয়ে এই ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটিকে সমর্থন করে চলেছে। দেশে যে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন ব্যাপক-মাত্রায় বেড়েছে, তারা তা বলতেই নারাজ, কখনো কেউ শোনবেন না-তারা নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলছেন। তারা জানে, তারা তা বললে একাত্তরে লাখ লাখ নারী ধর্ষণ ও পাইকারি গণধর্ষণের কাহিনি সবার স্মরণে আসতে পারে এবং তার দায় যে দখলদার বর্বর পাকসেনাদের পাশাপাশি তাদেরও, তা সবার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
এখন যদি প্রশ্ন করা হয়, সারা বিশ্বে যে ৫৩টি মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে তার কোনোটিতে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীটির রাজনীতি সফল হয়নি কেন? খোদ পাকিস্তানে তাদের নেতা আবুল আলা মওদুদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হয়েছিল ষাটের দশকেই (পরে প্রেসিডেন্ট বার্ধক্য-জর্জরিত মওদুদীকে ক্ষমা করে প্রাণভিক্ষা দিয়েছিলেন)।
যে কারণে সারা বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মুসলিম জনগোষ্ঠী এ ধর্মান্ধ মতলববাজ গোষ্ঠীটিকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি সেই বিষয়টি ভোটারদের মাথায় রাখা উচিত। এ দলটির প্রশাসন পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। আছে কেবল ধর্মের জিগির তুলে, পরকালের দোহাই দিয়ে ধর্মভীরু মানুষকে বিভ্রান্ত করার সীমাহীন অপচেষ্টা।
ধর্মান্ধ গোষ্ঠীটি উল্টাপাল্টা কথাবার্তা দিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টাও কম করেনি, তাতে সফল না-হয়ে শেষ মুহূর্তে নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া পাকিস্তান বা তুরস্কে এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে আমাদের দেশের এই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটির রাজনীতি পাত্তা পাচ্ছে না কেন? আমরা আবেদন জানাব- আমাদের ভোটারদের কাছে, ওই প্রশ্নের জবাব আদায় করুন। ইনশাল্লাহ, আমাদের বাংলাদেশি জাতীয়তবাদের রাজনীতির সাফল্য আসবেই, বিএনপি সব চক্রান্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে আমাদের রাষ্ট্রের জনসেবার দায়িত্ব এবার পাবেই পাবে। মহান আল্লাহপাক সবচেয়ে বড় ভরসার মালিক।
লেখক : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, সাবেক
সংসদ সদস্য ও ডাকসু সাধারণ সম্পাদক